ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

ঢাকা-তেহরান সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ইরান এবং বাংলাদেশ-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই দেশের রাষ্ট্রদূত। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সংসদীয় সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয় গুরুত্ব পায়।

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে প্রথমে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেলিং। এ সময় তিনি বর্তমান সংসদকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তুলতে স্পিকারের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করে সংসদীয় কার্যক্রমকে গতিশীল করতে স্পিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এই সংসদ জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সফলভাবে তার মেয়াদ সম্পন্ন করবে। তিনি সংসদ সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে দেশটির অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন।

আলোচনায় দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে আন্তঃসংসদীয় টিম গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন স্পিকার। পাশাপাশি ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর মাধ্যমে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সুইস রাষ্ট্রদূত মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

পরে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রাহিমী জাহানাবাদী। বৈঠকে দুই দেশের সংসদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংসদীয় প্রতিনিধিদল বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন স্পিকার। তিনি ইরানের জনগণকে সাহসী জাতি হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাও প্রশংসা করেন।

বৈঠকে ইরানি রাষ্ট্রদূত ঢাকা ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়ে স্পিকারের সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ইরানের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ড. জাহানাবাদী জানান, ইরান সাশ্রয়ী মূল্যে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, ইউরিয়া সার ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বাংলাদেশে রপ্তানিতে আগ্রহী। পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানির ক্ষেত্রেও তেহরানের আগ্রহ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশিদের ইরানের উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন এবং সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন ইরানি রাষ্ট্রদূত। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণের জন্য স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।