ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মার্চে আইসিইউ সংকটে রামেকে ২২৯ মৃত্যু, ৯১ জনই শিশু

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০১:১১ পিএম
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক)। ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) শয্যার জন্য অপেক্ষমাণ ৯১ জন শিশুসহ মোট ২২৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ৪০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে, যার মধ্যে শিশুদের জন্য ১২টি, বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য ১৬টি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১২টি- যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট কম।

সম্প্রতি হাম প্রাদুর্ভাবের কারণে হাসপাতালের অন্যান্য ইউনিট থেকে সমন্বয় করে শিশু আইসিইউতে আরও ছয়টি শয্যা সংযোজন করা হয়েছে। এতে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ বেডের সংখ্যা ১২ থেকে ১৮ হয়ে গেছে, যার মধ্যে ১২টি বর্তমানে হামের রোগীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

চলমান সংকট মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আরও ১০০ শয্যার একটি আইসিইউ স্থাপনের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে. বিশ্বাস জানান, মার্চে শিশু আইসিইউতে ১১৯ শিশু ভর্তি ছিলেন এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন ৩৮৬ জন। এই সময়ে ৯১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বয়োজ্যেষ্ঠ রোগীদের ক্ষেত্রে ভর্তি ছিলেন ১৪৩ জন, অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন ৩০২ জন, যাদের মধ্যে ৭০ জন মারা গেছেন। প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের মধ্যে ভর্তি ছিলেন ১৩৫ জন এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় ৩১২ জন; এদের মধ্যে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডা. শঙ্কর আরও জানান, প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়োজ্যেষ্ঠ রোগীদের মধ্যে মোট ৬১৪ জন অপেক্ষমাণ ছিলেন, যার মধ্যে ২৭৮ জনকে আইসিইউতে ভর্তি করা সম্ভব হয়েছিল। যাদের শয্যা না পাওয়া গিয়েছিল, তাদের মধ্যে ১৩৮ জন মারা গেছেন।

তিনি বলেন, হাম এবং নিউমোনিয়ার জটিলতার কারণে আইসিইউ সেবার চাহিদা ক্রমবর্ধমান, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। হাসপাতালের সীমিত ক্ষমতা এই চাহিদা মেটাতে পারছে না।

উল্লেখ, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রামেক হাসপাতালে সরকারিভাবে ১ হাজার ২০০টি বেড থাকলেও, এটি প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রোগীর চিকিৎসা করে, যা এর ধারণক্ষমতার অনেক উপরে।