ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গ্রিসগামী নৌকাডুবি: জানা গেল ৫ বাংলাদেশির পরিচয়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি; তাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। জানা গেছে তাদের পরিচয়। এ ঘটনায় ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স।

শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত বাংলাদেশিরা হলেন— সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার (ময়না), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া, আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান; রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমেদ মুন্না। জানা গেছে, মৃত্যুর পর তাঁদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, লিবিয়া থেকে ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরপথে যাত্রা শুরু করেন। বড় নৌযানের কথা বলে তাদের একটি ছোট নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটিতে ৫ জন সুদানি নাগরিকসহ ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। যাত্রাপথে অন্তত ১৮ জন মারা যান, যাদের বেশির ভাগের বাড়ি সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে। মৃতদেহগুলো দুই দিন নৌকায় রাখার পর দুর্গন্ধ ছড়ালে সেগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন তারা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দিরাইয়ের চারজন যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে মারা গেছেন। 

তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা বিষয়টির সত্যতা যাচাই করছি। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেনি।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টানা ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিস উপকূল থেকে ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। এই সময়ে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানান।