সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন কংগ্রেস দলের বামপন্থী নেতা, ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিষ্ঠাতা এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (আইএনএ) সর্বাধিনায়ক। তাঁর পিতা জানকীনাথ বসু এবং মাতা প্রভাবতী দেবী। ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি বর্তমান ভারতের ওডিশা রাজ্যের কটকে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব ও কৈশোর কটকেই কাটে এবং সেখানেই মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। তবে এক ইউরোপীয় শিক্ষকের সঙ্গে কথিত অসদাচরণের অভিযোগে তাঁকে ওই কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হয়ে দর্শনশাস্ত্রে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯১৯ সালে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি ইংল্যান্ডে যান এবং কৃতিত্বের সঙ্গে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার অংশ হতে অনিচ্ছুক হয়ে তিনি আইসিএস থেকে ইস্তফা দেন। এরপর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
সুভাষচন্দ্র বসু বাংলা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯২৮ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের ঐতিহাসিক অধিবেশনে তিনি কংগ্রেস স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সভাপতি এবং ১৯৩০ সালে কলকাতা করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
১৯৩৮ সালে তিনি সর্বসম্মতিক্রমে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৩৯ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। তবে মতবিরোধের কারণে ১৯৩৯ সালের এপ্রিলে তিনি সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরে তিনি ফরওয়ার্ড ব্লক প্রতিষ্ঠা করেন এবং কিষান সভার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ১৯৪০ সালের মার্চে বিহারের রামগড়ে এক আপসহীন সম্মেলনের আয়োজন করেন।
১৯৪০ সালের জুলাইয়ে কলকাতার হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাবন্দি অবস্থায় তিনি অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ওই বছরের ডিসেম্বরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
১৯৪১ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি গোপনে কলকাতা ত্যাগ করেন। কাবুল হয়ে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে জার্মানির বার্লিনে পৌঁছান। বার্লিনে অবস্থানকালে তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের জন্য জার্মান সরকারের সমর্থন লাভ করেন এবং ‘আজাদ হিন্দ’ অস্থায়ী সরকার গঠন করেন। বেতার সম্প্রচারের মাধ্যমে তিনি ভারতবাসীর প্রতি স্বাধীনতার আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে জার্মানি ও জাপানের সহযোগিতায় তিনি সাবমেরিনে করে সিঙ্গাপুরে যান এবং ১৯৪৩ সালের ২ জুলাই সেখানে পৌঁছান। সেখান থেকেই তিনি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মিকে সংগঠিত করেন। ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানের (তৎকালীন ফরমোজা) তাইহোকুতে এক বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

