ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিএনপি এই হত্যাকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত ও নৃশংস বলে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানায়। দলটির পক্ষ থেকে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বিএনপি নেতারা বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার যখন সারা দেশের মানুষ দাবি করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডকে অজুহাত বানিয়ে একটি চিহ্নিত মহল দেশজুড়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
বিএনপি নেতারা বলেন, এই সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র। তাদের অভিযোগ, অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে নস্যাৎ করে দেশে ফ্যাসিবাদের নতুন রূপ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করা হয়। বিএনপি দাবি করে, একের পর এক গুরুতর সহিংস ঘটনা ঘটলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে দেশ-বিদেশে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
বিএনপি আরও জানায়, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজ হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে। এ অবস্থায় ধারাবাহিক সহিংসতা ও নৈরাজ্যের ঘটনাগুলোকে দলটি আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শান্তিকামী দেশবাসীর পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্রকারীদের সতর্ক করে বলা হয়, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। সহিংসতা, নৈরাজ্য ও উসকানির বিরুদ্ধে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিএনপি নেতারা বলেন, যে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে অতীতে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জাতীয় নির্বাচন আদায় করা সম্ভব হয়েছিল, সেই ঐক্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার একটি তালিকাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে: ভারতের হাইকমিশনের কার্যালয় ও বাসভবনে হামলা, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পুনরায় অগ্নিসংযোগ, ছায়ানট ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে হামলা, উত্তরায় দোকানপাট ও রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা, ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক হিন্দু যুবককে হত্যার ঘটনা এবং কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির বাসভবনে অগ্নিসংযোগ।
বিএনপি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলে, অবিলম্বে হাদি হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিতকরণ এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন