ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য’

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন ততটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রার্থীদের প্রচার-সমর্থন, পাল্টা বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতির সমন্বয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনি পরিবেশ। এই প্রেক্ষাপটে খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এলাকায় নতুন আলোচনার জন্ম দেন। উপজেলার সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামে অবস্থিত তার নির্বাচনি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ন্যায়–ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতা নয়, রাজনীতি একটি আমানত। এই আমানত সঠিকভাবে পালনের জন্য সৎ, আল্লাহভীরু ও নৈতিক নেতৃত্ব অপরিহার্য। ছাতক-দোয়ারাবাজার অঞ্চল বহু দশক ধরে অবহেলা, অসম উন্নয়ন, বেকারত্ব, নদীভাঙন, শিল্পদূষণ ও নিরাপত্তাহীনতার করাল গ্রাসে রয়েছে। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি এলেও বাস্তবায়নে কোনো স্থায়ী দৃষ্টান্ত তৈরি হয়নি। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে এলাকায় হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম হয়েছে।

হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির আরও বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন চায়, কিন্তু সেই উন্নয়ন হতে হবে টেকসই, স্বচ্ছ এবং ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ছাড়া কোনো উন্নয়নই স্থায়ী হয় না। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা ও শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হলেই শহীদদের ত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে।

দেয়ালঘড়ি প্রতীকের এই প্রার্থী নির্বাচিত হলে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের উন্নয়নে কয়েকটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে রয়েছে—দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গঠন, স্থানীয় প্রশাসনসহ সব উন্নয়ন খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। দরিদ্র, শ্রমজীবী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক বৈষম্য ও নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ সেল গঠনের কথাও তিনি জানান।

শিক্ষা খাতে বিশেষ সংস্কারের অংশ হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তি শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা জোরদার করতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কার্যকর করে চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। বাজেটের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করে সড়ক-সেতু নির্মাণ, কৃষি উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও নদীভাঙন রোধে টেকসই প্রকল্প গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার এবং ধর্মীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শিশুদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালো টাকা ও পেশিশক্তির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে হাফিজ আব্দুল কাদির বলেন, নির্বাচন -সংশ্লিষ্ট সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কালো টাকার দাপটের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নেবেন। তিনি বলেন, আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজন হলে সংসদেও শক্ত কণ্ঠস্বর হবো।

সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, আপনারাই জাতির বিবেক। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপনাদের ভূমিকা ইতিহাস রচনা করে।

হিন্দু ও অমুসলিমদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে খোলাফায়ে রাশেদার আদর্শে পরিচালনা করতে চান তিনি। একই সঙ্গে হিন্দু ও অমুসলিম জনগোষ্ঠীর সামাজিক, ধর্মীয় ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে অঙ্গীকার করেন। তাঁর ভাষায়, আমরা কারও অধিকার ক্ষুণ্ন করতে চাই না। বরং সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি ইমাম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, জেলা সহসভাপতি মাওলানা সদরুল আমিন, ছাতক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা আকিক হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আখতার হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা আখতার হোসেন আতিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ জাবেদ, সিলেট কোতোয়ালি পশ্চিম থানা সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল কালাম আজাদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্র মজলিস সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি এনামুল হক আলী, পৌর সভাপতি মাওলানা জহির আহমদ, দোয়ারাবাজার সভাপতি মাওলানা মইনুল ইসলাম, সেক্রেটারি জাকির হোসেন সাইদ এবং আরও অনেকে।

প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি প্রসঙ্গে জানা যায়, হাফিজ আব্দুল কাদির সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মাস্টার হাজি ইলিয়াস আলীর ছেলে। দীন ও নৈতিকতার পথে চলার কারণে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। স্থানীয়ভাবে একজন সৎ, শিক্ষিত ও জনগণের পাশে থাকা ব্যক্তি হিসেবে তার সুনাম রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি সুনামগঞ্জ-৫ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের প্রতিযোগিতা নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।