জীবনের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোলা-৪ আসনে মো. নুরুল ইসলাম নয়ন এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছেন। ভোলা জেলার অন্তর্গত চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার এই কৃতী সন্তান ছাত্র নেতা থেকে এবার সংসদে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে এবং সারা দেশে চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
তিনি ভোলা-৪ (জাতীয় আসন-১১৮) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩৭ ভোট। দুজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে এই ভোটের ব্যবধান প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯১৪। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৯৩৫ ভোট। জাতীয় পার্টির মো. মিজানুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে পান ৫৪৫ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম ফুটবল প্রতীকে পান ২৩৫ ভোট। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) আবুল কালাম সিংহ প্রতীকে পান ২০৮ ভোট এবং আমজনতার দলের মো. জালাল উদ্দীন রুমী প্রজাপতি প্রতীকে পান ১৭৬ ভোট। নুরুল ইসলাম নয়নের এই বিজয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি চরফ্যাশনের জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন।
জানা গেছে, ভোলা-৪ আসনে মোট ভোটারসংখ্যা ৫ লাখ ২০ হাজার ৮ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩ লাখ ৩ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮৭ এবং বাতিল ভোট ৬ হাজার ৪২২টি।
নুরুল ইলাম নয়ন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার শরিফ পাড়ায় ১৯৭১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. মহিউদ্দিন মিয়া, মাতা উম্মে কুলছুম। তিনি একজন তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। নুরুল ইসলাম নয়ন পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যাল্টেপুলে বৃত্তি পেয়ে ১৯৮৭ সালে চরফ্যাশন সরকারি টি. ব্যারেট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় থেকে ১৯৯৬-৯৭ সেশনে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ঢাকা কলেজ সাউথ হোস্টেল কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, পাঠাগার সম্পাদক, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি (পিন্টু-লাল্টুর কমিটি), সহসভাপতির (লাল্টু-হেলাল কমিটি) দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মেধা, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের গুণাবলির জন্য পরিচিত ছিলেন। শিক্ষা জীবনে অর্জিত মূল্যবোধ তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে। সংগঠন পরিচালনায় তার দূরদর্শিতা, কর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং নীতিনিষ্ঠ অবস্থান তাকে দলের ভেতরে ও বাইরে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নুরুল ইসলাম নয়ন সততা, উদারতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা তাকে জনগণের আস্থাভাজন নেতায় পরিণত করেছে। বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ এবং জাতীয় পর্যায়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বাজিমাত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই বিজয় চরফ্যাশন তথা সমগ্র অঞ্চলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। মো. নুরুল ইসলাম নয়নের এই অর্জন কেবল একটি নির্বাচনি জয় নয়, এটি সততা, অধ্যবসায় এবং জনকল্যাণমুখী রাজনীতির স্বীকৃতি। তার নেতৃত্বে চরফ্যাশন ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় জনগণের।
নয়া সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, চরফ্যাশন-মনপুরাকে পর্যটনের নগরীতে পরিনত করা হবে। শিল্পকারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে বড় বড় কোম্পানিগুলোকে এখানে নিয়ে আসা হবে। তখন এ উপকূলীয় অঞ্চলে আর বেকার সমস্যা থাকবেনা। তাছাড়া এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকারসমূহ যেন ইনসাফের সাথে বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্য নিরলস কাজ করব ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি দুই উপজেলাকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ স্থাপন করে পর্যটনশিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটাব।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা হবে। নারীদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব আশ্বাস দিয়েছেন এই বিজয়ী সংসদ সদস্য।
উল্লেখ্য, এর আগে এ আসনে বিএনপি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। প্রথমবার অংশ নিয়েই তিনি বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেন।


