গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ দাবি জানান।
রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনাপ্রধানকে বলতে হবে—তিনি এ ঘটনার নির্দেশনা দিয়েছেন কি না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পরিষ্কার করতে হবে, প্রধান উপদেষ্টাকেও বক্তব্য দিতে হবে। আজ নুরুল হক নুরসহ আমাদের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেটা সরকারের নির্দেশনায় ছিল কি না তা জাতিকে জানাতে হবে।’
তিনি জানান, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন নুরুল হক নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
রাশেদ খান আরও বলেন, ‘নুর ভাইকে দেখতে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এসেছেন। তিনি আমাদের শিক্ষক। আমাদের কর্মীরা এখন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগের সময়েও কোনো নেতার ওপর এমন হামলা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। সেনাবাহিনী-পুলিশ একসঙ্গে হামলা চালিয়েছে—এমন ঘটনা অতীতে শুনিনি।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এবার গণঅধিকার পরিষদ একা আন্দোলন করবে না। জুলাইয়ের শক্তি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী প্রেতাত্মা ও দোসরদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে যমুনা ঘেরাও করবে। জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। না হলে একে একে সবার ওপর হামলা হবে এবং আরেকটি ১/১১ তৈরি করা হবে।’
এসময় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মঞ্জুও নুরের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘নুরুল হক নুরের অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় চিকিৎসা চলছে। সরকারের কাছে দাবি—বিশেষজ্ঞ বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। গণঅধিকার পরিষদের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের সঙ্গে আমরাও একমত। তদন্ত করতে ছয় ঘণ্টাই যথেষ্ট। এই সময়ের মধ্যে কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তা জানাতে হবে।’
তিনি আরও জানান, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রশাসনের উচ্চপদস্থদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেনাপ্রধান ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন তিনি। ‘আমরা আশা করি তিনি আমাদের দাবিগুলো পৌঁছে দেবেন,’ বলেন মঞ্জু।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন