সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে লড়তে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সাবেক পৌর কাউন্সিলর নুরজাহান বেগম হ্যাপী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এই ফরম সংগ্রহ করেন।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নুরজাহান বেগম হ্যাপী মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ তায়ালার উপর পূর্ণ আস্থা রেখে আজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলাম।
১৯৮৯ সালে আমার বাবা মরহুম দেওয়ান আব্দুল হামিদ জয়পুরহাট জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও জাগ দলের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাবার হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে আসা। তাই আমি মনে করি পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া আমার এই বিএনপি। দীর্ঘ সময় ধরে দলের জন্য রাজপথে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি এবং ৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার এরশাদ হঠাও আন্দোলনেও রাজপথে সংগ্রাম জোড়াল ভূমিকা পালন করেছি।
আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশ্যই আমার বিগত দিনের ত্যাগ ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন করবেন। আমি দলীয় মনোনয়ন পাব বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখি। ইনশাআল্লাহ।
নুরজাহান বেগম হ্যাপী তার দীর্ঘ ৩৭ বছর (১৯৮৯-২০২৬) রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ও পরে আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল জোড়াল। সেই সব বিভীষিকাময় দিন গুলোর আন্দোলনের সময় কি ভয়ংকর পরিস্থিতির কথা ব্যক্ত করেন। জয়পুরহাটের রাজপথে দাঙ্গা পুলিশের লাঠিচার্জ খেয়ে জীবনের ভয়ে তিনতলা বিশিষ্ট ছাদ লাফিয়ে পড়ে মেরুদন্ড ভাঙ্গা হাড় আজও মনে করিয়ে দেয় সেইসব দিনের কথা। তারপর আবারও ২৪ শের ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে ও তিনি কঠিন ভূমিকা পালন করেন। তিনি দাবি করেন তাদের মতো দলের নিষ্ঠাবান কর্মীদের জন্য আজ জুলাই বিপ্লবের স্বাদ গ্রহণ করছেন দেশের জনগণ।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবন এই কয়েক লাইন লিখে শেষ হবে না।
তিনি ১৯৯৩ সালে ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক পদে থেকে জয়পুরহাট পৌর কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এই দায়িত্ব পালন কালে তিনি সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন যথেষ্ট সুনামের সহিত। দল সংরক্ষিত আসনে মনোনীত করলে, নারী অধিকার রক্ষা এবং পাশাপাশি সামাজিক ও সুষ্ঠু ধারায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন দলের নির্দেশ অনুযায়ী।
দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ মেনে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় তার নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে তিনি দেশবাসী ও দলীয় সকল স্তরের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।


