ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে : মাওলানা আবদুল হালিম

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় জেলা কার্যালয়ে একটি দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, গাইবান্ধা জেলা আমির ও গাইবান্ধা-০২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মো. আব্দুল করিম এমপির সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহুরুল হক সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।

প্রধান অতিথি মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের মানুষ জামায়াতকে অভূতপূর্ব সমর্থন দিয়েছে। এজন্য আমরা দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। জামায়াতের এমপিরা জাতীয় সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলছেন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। জামায়াত কোনো আজ্ঞাবহ বিরোধী দল নয়; আমরা একটি কার্যকর সংসদ গড়ে তুলতে চাই।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামায় বিএনপি স্বাক্ষর করেছে। যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই একই অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণভোটও হয়েছে। সরকার জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা প্রকারান্তরে সেখান থেকে সরে আসছে। বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করার পর এখন জুলাই সনদের বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে। নির্বাচন মেনে নিলে গণভোটও মানতে হবে, আর গণভোট মানলে সংবিধান সংস্কারও মানতে হবে। বর্তমানে জনগণ বিক্ষুব্ধ, এবং তারা রাস্তায় নেমে আসার উপক্রম হয়েছে। ৪ কোটি মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই গণভোট বাতিলের কোনো ষড়যন্ত্র হলে সরকার নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সুতরাং অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।

সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদে অবশ্যই নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরই নিয়োগ দিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আবদুল হালিম আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কল্যাণে যে সব অধ্যাদেশ জারি করেছে, সেগুলো বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। বিএনপি তাদের মেনিফেস্টোতে যে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, তার প্রথম দাবিই ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা। অথচ এখন তারাই সংবিধান সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গণভোটের অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল। তিনি সরকারকে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

জামায়াতের জনশক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। তাই জামায়াতের দায়িত্বশীল এমপিদের দায়ী ইলাল্লাহর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি সংগঠনের সকল স্তরের জনশক্তিকে সত্যের সাক্ষ্য বহন করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমির জনাব আব্দুল ওয়ারেছ এমপি, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক মাজেদুর রহমান এমপি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম এমপি, জেলা সহকারী সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনজ্জামান ও মো. ফয়সাল কবির রানা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ছাত্রনেতা মো. ইউসুফ আল কারযাভীসহ জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ এবং উপজেলা আমির ও সেক্রেটারিগণ।