জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভোটগ্রহণ চলাকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বাধা, ব্যালট ছিনতাই এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে বাংলামোটরে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মনিরা শারমিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
মনিরা শারমিন বলেন, ঢাকা-১৮ আসনের উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টরা দলীয় কার্ড ঝুলিয়ে অবস্থান নেন, যা নির্বাচনী বিধির পরিপন্থি। একই আসনের খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জে জান-ই-আলম স্কুল কেন্দ্রে নারী ভোটারদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। কুমিল্লার এক কেন্দ্রে এক কক্ষে একাধিক পোলিং এজেন্ট থাকার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি কক্ষে একজন প্রার্থীর পক্ষে একজন পোলিং এজেন্ট থাকতে পারেন। ঢাকা-১৭ আসনে পুলিং এজেন্টের অনুপস্থিতিতে সিল মারার অভিযোগ এসেছে। সত্য প্রমাণিত হলে এর দায় তারেক রহমানকে নিতে হবে।
মনিরা শারমিন আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এনসিপি প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর পোলিং এজেন্টকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। পাবনা-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, নোয়াখালীর হাতিয়া, মুন্সীগঞ্জ-৩ ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা, মোবাইল ফোন ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি জানান, শেরপুর-১ আসনে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে; পরে প্রশাসন সিল মারার পর শতাধিক ব্যালট উদ্ধার করে। ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ভোটাররা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রে গিয়ে তারা জানতে পারেন তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইল-৮ এবং পিরোজপুর-৩ আসনে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, নাটোর, যশোর, গাজীপুর ও মেহেরপুরেও নানা অনিয়মের অভিযোগ এসেছে।
মনিরা শারমিন বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালন করছেন না। লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর সমাধান নেই। বিভিন্ন স্থানে ভোট রিগিং ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। সাধারণ জনগণ এটি মেনে নেবে না। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে, প্রয়োজনে নির্বাচন বয়কট বা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
-20260212154201.webp)

