× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১০:৩১ এএম

আপনার সম্পদের জাকাত দেওয়ার সহজ নিয়ম

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১০:৩১ এএম

জাকাত হিসাবের সহজ নিয়ম।  ছবি : সংগৃহীত

জাকাত হিসাবের সহজ নিয়ম। ছবি : সংগৃহীত

জাকাত (Zakat) শব্দের অর্থ হলো পবিত্র করা বা বৃদ্ধি পাওয়া। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, জাকাত দিলে সম্পদ অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হয় এবং আল্লাহ তাতে বরকত বা বৃদ্ধি দান করেন। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। এটি কেবল দান নয়, বরং সামর্থ্যবান মুসলিমের সম্পদের ওপর দরিদ্রের অধিকার। জাকাতের সঠিক হিসাব জানা এবং তা আদায় করা প্রত্যেকের ধর্মীয় দায়িত্ব।

ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক জাকাতের হিসাব পদ্ধতি

১. নিসাব: জাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত
জাকাত সবার ওপর ফরজ নয়। যখন কোনো মুসলিমের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর পূর্ণ সময় অতিবাহিত হয়, তখনই তার ওপর জাকাত দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়।

স্বর্ণের নিসাব: ৭.৫ তোলা (ভরি) বা ৮৭.৪৫ গ্রাম।
রুপার নিসাব: ৫২.৫ তোলা (ভরি) বা ৬১২.৩৬ গ্রাম।

নগদ টাকা বা ব্যবসায়িক পণ্য: আপনার কাছে থাকা নগদ টাকা বা ব্যবসার পণ্যের মূল্য যদি ৫২.৫ তোলা রুপার সমমূল্য হয়, তবেই জাকাত ফরজ হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বর্তমানে স্বর্ণ এবং রুপার দামের মধ্যে অনেক পার্থক্য। ওলামায়ে কেরামদের মতে, সাধারণ মানুষের উপকারের স্বার্থে রুপার নিসাবকেই (কম মূল্য) ভিত্তি ধরা হয়।

২. জাকাতযোগ্য সম্পদসমূহ
হিসাব করার সময় নিচের সম্পদগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে:
নগদ অর্থ: হাতে থাকা টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স, ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্র।
স্বর্ণ ও রুপা: অলঙ্কার বা কয়েন আকারে থাকা সোনা-রুপা।
ব্যবসায়িক পণ্য: বিক্রির উদ্দেশ্যে দোকানে বা গোডাউনে রাখা মালামাল।
শেয়ার ও বিনিয়োগ: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা টাকা বা ব্যবসার মূলধন।
পাওনা টাকা: যে টাকা আপনি অন্যের কাছ থেকে নিশ্চিতভাবে ফেরত পাবেন।

৩. জাকাত থেকে বাদ যাবে যা (ঋণ ও দায়)
জাকাত হিসাব করার আগে মোট সম্পদ থেকে নিচের বিষয়গুলো বিয়োগ করতে হবে:
ব্যক্তিগত ঋণ: যা আপনাকে পরিশোধ করতে হবে।
জরুরি খরচ: পরিবারের ভরণ-পোষণ, শিক্ষা বা চিকিৎসার জন্য গচ্ছিত রাখা অতি প্রয়োজনীয় অর্থ।
অ-জাকাতযোগ্য সম্পদ: বসবাসের ঘর, ব্যবহারের গাড়ি, আসবাবপত্র, পরনের কাপড় এবং পেশার সরঞ্জাম।

৪. জাকাতের হার ও গাণিতিক সূত্রমোট জাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে ঋণ বাদ দেওয়ার পর যে নিট সম্পদ থাকবে, তার ২.৫% (বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ) জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হবে। জাকাত = মোট জাকাতযোগ্য সম্পদ - ঋণ x ২.৫%

৫. একটি কাল্পনিক হিসাব উদাহরণ
ধরা যাক, জনাব ‘ক’ এর সম্পদের বিবরণ নিচের মতো:
নগদ টাকা (ব্যাংক ও হাতে) ২,০০,০০০
স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্য ৩,০০,০০০
ব্যবসায়িক পণ্য ৪,০০,০০০
মোট সম্পদ ৯,০০,০০০
(মাইনাস) ব্যক্তিগত ঋণ ৫০,০০০
নিট জাকাতযোগ্য সম্পদ ৮,৫০,০০০
এখানে জাকাতের পরিমাণ: ৮,৫০,০০০ x ০.০২৫ = ২১,২৫০ টাকা।

৬. জাকাত প্রদানের নিয়ম ও খাত
জাকাত দেওয়ার সময় ‘নিয়াত’ করা জরুরি। জাকাত নির্দিষ্ট আটটি খাতে ব্যয় করা যায় (সুরা তওবা, আয়াত ৬০), যার মধ্যে প্রধান হলো:

দরিদ্র ও অভাবী মানুষ।
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (যিনি ঋণ শোধ করতে পারছেন না)।
অসহায় মুসাফির বা পথিক।

জাকাত সম্পদকে পবিত্র ও বরকতময় করে। সঠিক হিসাবের মাধ্যমে জাকাত প্রদান করলে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয়। তাই প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট হিজরি তারিখ (যেমন: রমজান মাস) নির্ধারণ করে জাকাতের হিসাব করা উত্তম।
 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!