ইসলামে ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও জাকাত। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য জায়গায় সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদানের আদেশ করা হয়েছে। সুরা বাক্বারায় আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,‘তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখছেন।
জাকাত কেবল তখনই ফরজ হয় যখন সম্পদ নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্য) হয় এবং তা পূর্ণ এক বছর মালিকানাধীন থাকে। নিচে প্রধান প্রধান জাকাতযোগ্য খাতের তালিকা দেওয়া হলো:
১. স্বর্ণ, রৌপ্য ও অলঙ্কার
সোনা ও রুপা যেকোনো অবস্থায় থাকলেই তার ওপর জাকাত দিতে হয়—তা ব্যবহার্য অলঙ্কার হোক, মুদ্রা হোক বা অলস পড়ে থাকা বিস্কুট হোক। তবে হীরা, তামা বা অন্য মূল্যবান পাথরের ওপর জাকাত নেই, যদি না সেগুলো ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাখা হয়।
২. নগদ অর্থ ও সঞ্চয়
নগদ টাকা যা আপনার কাছে জমা আছে, তার ওপর জাকাত ফরজ। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। যেমন
ক. হাতে রাখা নগদ টাকা।
খ. ব্যাংক ব্যালেন্স (সেভিংস, কারেন্ট বা ফিক্সড ডিপোজিট)।
গ. বন্ড, শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র ও
ঘ. হজ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জমানো টাকা (যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়।
৩. ব্যবসায়িক পণ্য
ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে রাখা যেকোনো পণ্যের ওপর জাকাত ফরজ। দোকানের মালামাল, বিক্রির উদ্দেশ্যে কেনা জমি বা ফ্ল্যাট, এসবের বর্তমান বাজারমূল্যের ওপর ২.৫% হারে জাকাত দিতে হবে। তবে দোকানের আসবাবপত্র বা ডেকোরেশনের ওপর জাকাত নেই।
৪. কৃষি ফসল (উশর)
ক. জমি থেকে উৎপাদিত ফসলের ওপরও জাকাত (যাকে উশর বলা হয়) ফরজ।
খ. প্রাকৃতিকভাবে সেচ পাওয়া ফসলের ক্ষেত্রে ১০%।
গ. কৃত্রিম সেচ বা অর্থ ব্যয় করে উৎপাদিত ফসলের ক্ষেত্রে ৫% জাকাত দিতে হয়।।
৫. গবাদি পশু
যদি গবাদি পশু (গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, উট) বছরের অধিকাংশ সময় চারণভূমিতে ঘাস খেয়ে জীবনধারণ করে এবং তা বংশবৃদ্ধি বা দুধের জন্য পালন করা হয়, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা অনুযায়ী তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। তবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রাখা পশুর ওপর জাকাত নেই।
৬. পাওনা টাকা
আপনি যদি কাউকে টাকা ধার দিয়ে থাকেন এবং সেই টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা থাকে, তবে সেই টাকার ওপরও জাকাত দিতে হবে।
যেসব জিনিসের ওপর জাকাত নেই
সব সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয় না। সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর জাকাত নেই যেমন:
ক. থাকার ঘর বা বাড়ি।
খ. ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি।
গ. ব্যবহার্য পোশাক আশাক।
ঘ. পেশাগত কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও
ঙ. খাদ্যশস্য যা নিজের পরিবারের খোরাকির জন্য রাখা হয়েছে।
জাকাত হিসাব করার সময় আপনার মোট সম্পদ থেকে আপনার ওপর থাকা বর্তমান ঋণ বাদ দিতে হবে। ঋণ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তবেই জাকাত দিতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন