রমজানের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে পবিত্র শাওয়াল মাস। এই মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা হাদিসের পরিভাষায় পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য। তবে এই রোজা কত তারিখ পর্যন্ত রাখা যাবে এবং এর বিধান কী, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে।
শাওয়ালের রোজা রাখার সময়সীমা
২০২৬ সালে (হিজরি ১৪৪৭) শাওয়াল মাসের রোজা রাখার শেষ সময় নির্ভর করছে চাঁদ দেখার ওপর। গত ২০ বা ২১ মার্চ বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। সেই হিসেবে:
শাওয়াল মাসের ২ তারিখ থেকে এই রোজা রাখা শুরু করা যায়।
১৮ বা ১৯ এপ্রিল ২০২৬ (শাওয়াল মাসের ২৯ বা ৩০ তারিখ) পর্যন্ত এই রোজা রাখার সুযোগ থাকবে।
যেহেতু হিজরি মাস ২৯ বা ৩০ দিনে হয়, তাই জিলকদ মাসের চাঁদ ওঠার আগেই এই ছয়টি রোজা সম্পন্ন করতে হবে। নিরাপদ থাকতে ১৮ এপ্রিলের মধ্যেই রোজাগুলো শেষ করে নেওয়া উত্তম।
একটানা না কি ভেঙে ভেঙে?
শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখার ক্ষেত্রে ইসলামে যথেষ্ট নমনীয়তা রয়েছে।
১. ধারাবাহিকতা: রোজাগুলো একটানা রাখা আবশ্যক নয়। পুরো মাসের মধ্যে যেকোনো ছয় দিন রোজা রাখলেই সওয়াব পাওয়া যাবে।
২. নিষিদ্ধ দিন: শুধুমাত্র ঈদের দিন (১ শাওয়াল) রোজা রাখা হারাম। ঈদের পরের দিন থেকেই এই রোজা রাখা শুরু করা যায়।
৩. কাজা রোজা: যাদের রমজানের রোজা কাজা রয়েছে, আলেমদের মতে আগে ফরজ (কাজা) রোজা আদায় করে তারপর শাওয়ালের নফল রোজা রাখা উত্তম। তবে সময় কম থাকলে নফল রোজাগুলো আগে রেখে পরে কাজা আদায় করার অবকাশও রয়েছে।
কেন রাখবেন শাওয়ালের ছয় রোজা?
রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।” (সহিহ মুসলিম)।
ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব অন্তত ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। সেই হিসেবে রমজানের ৩০টি রোজা ৩০০ দিনের সমান এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা ৬০ দিনের সমান। অর্থাৎ মোট ৩৬০ দিন বা এক বছরের সওয়াব অর্জিত হয় এই আমলের মাধ্যমে।
শাওয়াল মাস শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। যারা এখনো এই বরকতময় রোজাগুলো পূর্ণ করতে পারেননি, তারা দ্রুত পরিকল্পনা করে নিতে পারেন। পরকালীন পাথেয় সংগ্রহে এই সুযোগ হাতছাড়া করা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন