সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি বায়ুমণ্ডলীয় বিদ্যুৎ ক্ষরণ হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এর গভীর তাৎপর্য এবং শিক্ষা রয়েছে।
বজ্রপাত আল্লাহর শক্তির নিদর্শন
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, বজ্রপাত মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার একটি নিদর্শন। পবিত্র কুরআনের সূরা আর-রা'দ-এ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “মেঘের গর্জন তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতারাও তাঁর ভয়ে কম্পিত হয়ে তাঁর পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করে। তিনি গর্জনকারী বিজলি পাঠান, অতঃপর যাকে ইচ্ছা তা দিয়ে আঘাত করেন...” (সূরা আর-রা'দ, আয়াত: ১৩)
বজ্রাঘাতে মৃত্যু কি শহীদি মৃত্যু?
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক মৃত্যুর বাইরে প্রাণ হারালে তাদের 'শহীদ' হিসেবে গণ্য করার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। হাদিসের আলোকে আলেমদের অভিমত হলো:
আকস্মিক দুর্যোগ: বজ্রপাত একটি আকস্মিক দুর্যোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) মহামারীতে, পেটের রোগে, পানিতে ডুবে বা কোনো চাপা পড়ে মৃত্যুবরণকারীকে শহীদ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ওলামাদের মত: অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ মনে করেন, যেহেতু বজ্রপাত একটি আসমানি দুর্যোগ এবং এর মাধ্যমে মানুষ আকস্মিক ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর শিকার হয়, তাই যদি ওই ব্যক্তি ঈমানদার হন, তবে তিনি আখিরাতে শহীদের মর্যাদা লাভ করবেন।
বজ্রপাতের সময় করণীয় ও দোয়া
বজ্রপাত কেবল শাস্তির বার্তা নয়, বরং এটি মানুষকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম। হাদিসে বজ্রপাতের শব্দ শুনলে দোয়া পড়ার নির্দেশ এসেছে।
নবীজির (সা.) আমল:
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) যখন বজ্রের শব্দ শুনতেন, তখন কথা বলা বন্ধ করে দিতেন এবং এই আয়াত পাঠ করতেন:
‘সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা’দু বিহামদিহি ওয়াল মালাইকাতু মিন খিফাতিহি’
(অর্থ: পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে মেঘের গর্জন এবং ফেরেশতারাও তাঁর ভয়ে পবিত্রতা ঘোষণা করে।)
এছাড়াও বজ্রপাতের সময় মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা সুন্নত।
সচেতনতা ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলাম মানুষকে যেকোনো বিপদে সচেতন থাকার নির্দেশ দেয়। বজ্রপাত চলাকালীন খোলা আকাশের নিচে না থাকা, উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকা—এসব জাগতিক সতর্কতা অবলম্বন করা ইসলামের 'তাওয়াক্কুল' বা আল্লাহর ওপর ভরসারই অংশ। কারণ, নিজের জীবন রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য।
বজ্রাঘাতে মৃত্যু আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এটি যেমন আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করে, তেমনি মানুষের নশ্বরতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা এবং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানের নির্দেশিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন