মানুষের জীবনে নানা সময় কঠিন সংকট, বিপদ-আপদ কিংবা বিশেষ কোনো চাহিদার সৃষ্টি হয়। ইসলামি শরিয়তে এমন পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো ‘সালাতুল হাজত’ বা প্রয়োজন পূরণের নামাজ। নবী কারিম (সা.) নিজে যেকোনো সংকটে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর ওপর ভরসা করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও তা শিক্ষা দিয়েছেন।
সালাতুল হাজত কী?
‘সালাত’ শব্দের অর্থ নামাজ এবং 'হাজত' শব্দের অর্থ হলো প্রয়োজন। অর্থাৎ নিজের কোনো বিশেষ বৈধ প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে নফল নামাজ পড়া হয়, তাকেই পরিভাষায় ‘সালাতুল হাজত’ বলা হয়।
কেন এই নামাজ পড়া হয়?
মানুষ যখন নিজের সামর্থ্যে কোনো কাজ পূর্ণ করতে পারে না কিংবা কোনো বড় বিপদের সম্মুখীন হয়, তখন সে আল্লাহর মুখাপেক্ষী হয়। সালাতুল হাজত পড়ার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো:
মহান আল্লাহর সাহায্য ও করুণা লাভ করা।
দুনিয়াবি বা পরকালীন কোনো বিশেষ অভাব পূরণের আবেদন জানানো।
বিপদ-আপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া।
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আল্লাহর রহমত কামনা করা।
সালাতুল হাজত পড়ার নিয়ম
সালাতুল হাজত পড়ার কোনো নির্ধারিত সময় নেই (নিষিদ্ধ সময়গুলো বাদে)। তবে শেষ রাতে বা তাহাজ্জুদের সময় এই নামাজ পড়া অত্যন্ত বরকতময়।
১. সুন্দরভাবে অজু করে একাগ্রতার সাথে দুই রাকাত নফল নামাজের নিয়ত করতে হয়।
২. অন্যান্য সাধারণ নফল নামাজের মতোই এই নামাজ পড়তে হয়। কোনো বিশেষ সূরা নির্দিষ্ট নয়, তবে সূরা ফাতিহার পর যেকোনো সূরা তিলাওয়াত করা যায়।
৩. নামাজ শেষ করে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) এবং নবীজির (সা.) ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করতে হয়। এরপর বিনয় ও কাকুতি-মিনতির সাথে নিজের হাজত বা প্রয়োজনে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হয়।
হাদিসের নির্দেশনা
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন- “যার কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, সে যেন উত্তমরূপে অজু করে এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে। এরপর যেন আল্লাহর প্রশংসা করে এবং নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করে। অতপর সে যেন এই দোয়াটি পড়ে...” (সুনানে তিরমিজি)।
হাদিসে বর্ণিত বিশেষ একটি দোয়া হলো:
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারিম, সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আরশিল আজিম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন...’ (পুরো দোয়াটি হাদিসের কিতাবসমূহে বর্ণিত আছে)।
সালাতুল হাজত কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে। মুমিনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর সাহায্যের প্রয়োজন। তাই যেকোনো বৈধ চাওয়া-পাওয়া বা সংকটে অন্য কারোর দ্বারস্থ না হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজের মাধ্যমে সরাসরি স্রষ্টার সাহায্য প্রার্থনা করাই ইসলামের শিক্ষা।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন