× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১০:৩১ এএম

বিপদ মুক্তি ও রিযিক বৃদ্ধির মহৌষধ ইস্তেগফারের বিস্ময়কর ফজিলত

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১০:৩১ এএম

ইস্তেগফারের বিস্ময়কর ফজিলত।  ছবি : সংগৃহীত

ইস্তেগফারের বিস্ময়কর ফজিলত। ছবি : সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে মানুষ নানা ভুল-ভ্রান্তি ও পাপে লিপ্ত হয়। এই পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রধান হাতিয়ার হলো ‘ইস্তেগফার’ বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে ইস্তেগফারের নানাবিধ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যা কেবল পরকালীন মুক্তিই নয়, বরং দুনিয়াবী জীবনেও সুখ-শান্তির চাবিকাঠি।

১. রিযিক বৃদ্ধি ও রহমতের বৃষ্টি
ইস্তেগফার পাঠের মাধ্যমে রিযিকে বরকত আসে। পবিত্র কুরআনে হযরত নুহ (আ.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এর বিস্ময়কর সুফল বর্ণিত হয়েছে:

“অতঃপর বলেছি, তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের জন্য উদ্যান ও নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সূরা নুহ: ১০-১২)

২. বিপদ ও আযাব থেকে সুরক্ষা
দুনিয়ার বুকে আল্লাহর আযাব ও গজব থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হলো ইস্তেগফার। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন:

"আল্লাহ এমন নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তেগফার) করবে অথচ তিনি তাদের শাস্তি দেবেন।" (সূরা আনফাল: ৩৩)

৩. দুশ্চিন্তা মুক্তি ও প্রশান্তি লাভ
ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে দুশ্চিন্তা ও পেরেশানিতে ইস্তেগফার মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

“যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তাকে প্রতিটি সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সকল দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেবেন যা সে কল্পনাও করেনি।” (সুনানে আবু দাউদ)

৪. গুনাহ মাফ ও জান্নাত লাভ
ইস্তেগফারের মূল লক্ষ্যই হলো আল্লাহর ক্ষমা লাভ করা। নিয়মিত তওবা ও ইস্তেগফারকারীর আমলনামা থেকে গুনাহ মুছে দিয়ে সেখানে সওয়াব লিখে দেওয়া হয়, যা পরকালে জান্নাতে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করে।

৫. শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি
কুরআনের অন্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, ইস্তেগফার পাঠ করলে আল্লাহ মানুষের শক্তি বাড়িয়ে দেন। যারা নিয়মিত ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাদের জীবনে এক ধরণের আধ্যাত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি কাজ করে।

শ্রেষ্ঠ ইস্তেগফার ‘সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার’
রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দুয়া শিখিয়েছেন যা ‘সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার’ নামে পরিচিত। হাদিসে এসেছে, কেউ যদি সকালে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এটি পাঠ করে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যায়, তবে সে জান্নাতি হবে। অনুরূপভাবে সন্ধ্যায় পাঠ করে রাতে মারা গেলেও সে জান্নাতের অধিকারী হবে।

আলেমদের পরামর্শ:

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইস্তেগফার কেবল ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ মুখে উচ্চারণের নাম নয়, বরং অন্তরে অনুশোচনা রেখে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই হলো প্রকৃত ইস্তেগফার। কাজের ফাঁকে, চলার পথে বা অবসরে বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করলে জীবন বরকতময় হয়ে ওঠে।

বর্তমান অস্থির সময়ে মানসিক শান্তি ও অভাব অনটন থেকে মুক্তির জন্য ইস্তেগফারের চেয়ে কার্যকর আর কিছু হতে পারে না। আসুন, আমরা জিহ্বাকে সবসময় আল্লাহর যিকির ও ক্ষমা প্রার্থনায় সিক্ত রাখি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!