× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

আল্লাহ কেন যাকাত ফরজ করলেন?

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং মুসলিম জীবনের একটি মৌলিক ইবাদত। এটি কেবল দান নয়, বরং আল্লাহর নির্ধারিত একটি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র হয় এবং সমাজের অভাবগ্রস্ত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

প্রতি বছর সামর্থ্যবান মুসলমানরা তাদের সঞ্চিত সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ- সাধারণত ২.৫ শতাংশ- যাকাত হিসেবে প্রদান করেন। এর মাধ্যমে ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি যেমন অর্জিত হয়, তেমনি সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্যও প্রতিষ্ঠিত হয়।

যদিও যাকাতের পূর্ণাঙ্গ বিধান মদীনায় প্রবর্তিত হয়, মক্কা যুগ থেকেই কুরআনে এর গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মু'মিনুন (২৩:১–৪)-এ ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে নামাজের পাশাপাশি যাকাত প্রদানের কথা উল্লেখ করেছেন।

এতে বোঝা যায়, ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই যাকাত ঈমানের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আবার সূরা ফুসসিলাত (৪১:৬–৭)-এ যাকাত পরিত্যাগকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, যা এই ইবাদতের গুরুত্ব আরও সুস্পষ্ট করে।

হিজরতের পর ২ হিজরীতে মদীনায় যাকাত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। তখন নিসাবের পরিমাণ, নির্দিষ্ট হার এবং যাকাতের উপযুক্ত প্রাপকদের শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ করা হয়।

সূরা আত-তাওবা (৯:১০৩)-এ আল্লাহ নবীকে নির্দেশ দেন সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করে তা দ্বারা দাতাদের পবিত্র করতে।

একই সূরার ৯:৬০ নম্বর আয়াতে যাকাতের প্রাপকদের নির্দিষ্ট শ্রেণি উল্লেখ করা হয়েছে- দরিদ্র, অভাবী, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং মুসাফিরসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী।

এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, যাকাত শুধু ব্যক্তিগত দান নয়; এটি একটি সুসংগঠিত সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা।

নবী করিম (সা.)-এর ইন্তেকালের পরও যাকাতের গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ ছিল। যখন কিছু লোক যাকাত প্রদান থেকে বিরত থাকতে চেয়েছিল, তখন খলিফা আবু বকর (রাঃ) দৃঢ় অবস্থান নেন এবং ঘোষণা করেন যে নামাজ ও যাকাতকে পৃথক করা যায় না। সহীহ আল-বুখারী (হাদিস ১৩৯৯)-এ বর্ণিত এই ঘটনা প্রমাণ করে, যাকাত ইসলামের ভিত্তিগত স্তম্ভগুলোর একটি এবং এটি অবহেলা করার সুযোগ নেই।

আজকের বিশ্বে যাকাত গণনা ও বিতরণের পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন এলেও এর মূল উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে- সম্পদের পবিত্রতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অভাবগ্রস্তদের সহায়তা।

কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী, যাকাত আদায় ও বণ্টনের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে সহমর্মিতা, সাম্য ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়। তাই যাকাত কেবল একটি অর্থনৈতিক বিধান নয়; এটি ঈমান, নৈতিকতা ও সামাজিক সংহতির এক অনন্য সমন্বয়।

Link copied!