রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত পালন একজন মুমিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ। এটি কেবল ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং ইমানের পূর্ণতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রধান শর্ত। ইসলামিক পরিভাষায় সুন্নাহ হলো প্রিয় রাসুল (সা.)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি। একজন মুমিনের জীবনে সুন্নাতের গুরুত্ব অপরিসীম, যা কুরআনের নির্দেশের মতোই বাধ্যতামূলক।
১. আল্লাহর ভালোবাসার মাপকাঠি
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, তাঁকে ভালোবাসতে হলে রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করতে হবে। “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন ” (সূরা আলে ইমরান: ৩১)
অর্থাৎ, আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার একমাত্র পথ হলো সুন্নাতের অনুসরণ।
২. ইমানের পূর্ণতা
রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর দেখানো পথ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা ইমানের অন্যতম শর্ত। হাদিসে এসেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি তার সন্তান, পিতামাতা এবং সব মানুষের চেয়ে রাসুল (সা.)-কে বেশি ভালো না বাসবে, ততক্ষণ সে পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না। আর এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সুন্নাত পালনের মাধ্যমে।
৩. জীবনকে সুশৃঙ্খল করা
সুন্নাত কেবল ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত প্রতিটি কাজের সুন্নাহ পদ্ধতি রয়েছে।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: মিসওয়াক করা, নখ কাটা।
সামাজিক আচরণ: সালাম দেওয়া, হাসিমুখে কথা বলা, প্রতিবেশীর হক আদায়।
খাদ্যাভ্যাস: বসে পানি পান করা, দস্তরখান ব্যবহার করা।
এই ছোট ছোট কাজগুলো মেনে চললে একজন মুমিনের পুরো ২৪ ঘণ্টাই ইবাদতে পরিণত হয়।
৪. ফিতনার যুগে সুন্নাত আঁকড়ে ধরার সওয়াব
বর্তমান সময়ে যখন চারদিকে নানা বিভ্রান্তি ও পাপাচার ছড়িয়ে পড়ছে, তখন একটি সুন্নাত জিন্দা করা বা পালন করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, উম্মতের বিপর্যয়ের সময় যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য রয়েছে একশ শহীদের সওয়াব (বাইহাকি)।
৫. পরকালীন মুক্তি ও শাফায়াত
কিয়ামতের কঠিন ময়দানে রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত বা সুপারিশ পাওয়ার জন্য সুন্নাতের অনুসারী হওয়া জরুরি। যারা সুন্নাহ বর্জন করে মনগড়া পথে চলবে, তারা হাউজে কাউসারের পানি পান করা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন