বিপদ-আপদে বা মনের নেক আশা পূরণে মুমিন বান্দা মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। অনেক সময় দেখা যায়, দীর্ঘকাল ধরে চোখের পানি ফেলে দোয়া করার পরেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। এতে অনেকের মনেই হতাশা কাজ করে। কিন্তু ইসলাম বলে, দোয়া কবুল না হওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ বা আল্লাহর বিশেষ কোনো হিকমত (রহস্য) লুকিয়ে থাকে।
কেন দোয়া কবুল হয় না?
ইসলামী ফিকাহবিদ ও উলামায়ে কেরাম কুরআন ও হাদিসের আলোকে দোয়া কবুলের অন্তরায় হিসেবে বেশ কিছু বিষয় চিহ্নিত করেছেন:
১. হারাম উপপার্জন ও খাদ্য গ্রহণ: দোয়া কবুল না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো হারাম রিজিক। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করে ক্লান্ত হয়ে আসমানের দিকে হাত তুলে দোয়া করে, অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম এবং তার পোশাকও হারাম—তার দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (সহিহ মুসলিম)।
২. দোয়ায় তাড়াহুড়ো করা: অনেকেই দোয়া করে বলেন, “আমি অনেক দোয়া করলাম কিন্তু কবুল হলো না।” এই ধরনের হাহুতাশ বা অভিযোগ দোয়া কবুলের পথে বাধা। হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার দোয়া কবুল করেন, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে।
৩. আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা: যারা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বা মানুষের প্রতি অন্যায় করে, তাদের দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
৪. পাপের কাজে দোয়া করা: যদি কেউ কোনো নিষিদ্ধ বা গুনাহের কাজের জন্য দোয়া করে, তবে সেই দোয়া মহান আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না।
দোয়া কি আসলেই বৃথা যায়?
সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, একজন মুমিন যখন আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং তাতে কোনো গুনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার বিষয় না থাকে, তখন আল্লাহ তিনটি অবস্থার যেকোনো একটি দান করেন:
প্রথমত: যা চাওয়া হয়েছে, আল্লাহ দুনিয়াতে তা সরাসরি দিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ত: প্রার্থনার বিনিময়ে আল্লাহ তার কোনো বড় বিপদ দূর করে দেন যা সে জানত না।
তৃতীয়ত: সেই দোয়ার সওয়াব বান্দার জন্য পরকালের পাথেয় হিসেবে জমা রাখা হয়।
দোয়া কবুলের শর্ত ও আদব
দোয়া কবুলের জন্য কিছু বিশেষ আদব রক্ষা করা প্রয়োজন:
পুরোপুরি একনিষ্ঠতা ও বিশ্বাসের সাথে দোয়া করা যে, আল্লাহ অবশ্যই শুনবেন।
আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূল (সা.) এর ওপর দরুদ পাঠ করে দোয়া শুরু ও শেষ করা।
কবুল হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট উত্তম সময়গুলো (যেমন: শেষ রাত, সিজদাহরত অবস্থা, জুমার দিন আসরের পর) বেছে নেওয়া।
দোয়া কবুল হচ্ছে না ভেবে নিরাশ হওয়া শয়তানের প্ররোচনা মাত্র। চোখের প্রতিটি ফোঁটা পানি আল্লাহর কাছে অতি মূল্যবান। হতে পারে আল্লাহ আপনার জন্য এর চেয়েও উত্তম কিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন, যা আপনি এই মুহূর্তে বুঝতে পারছেন না। তাই ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন