আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক ভূমিকাকে 'অপরিণামদর্শী' ও 'অপেশাদার' বলে আখ্যা দিয়েছেন বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সাবেক সিইও সৈয়দ আশরাফুল হক।
তার মতে, পরিস্থিতির সঠিক মোকাবিলায় বিসিবি ব্যর্থ হয়েছে, যার খেসারত দিতে হতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে।
ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বোর্ড ও সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন।
১. খেলোয়াড়দের মতামতের অবজ্ঞা
সৈয়দ আশরাফুল হক বলেন, যেকোনো স্ব-সম্মানী বোর্ড এ ধরনের বড় সিদ্ধান্তে খেলোয়াড়দের আস্থায় নেয়।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের কাছে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত ছিল এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাদের দেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু এখানে খেলোয়াড়দের স্বপ্নকে কোনো পাত্তাই দেওয়া হয়নি।
২. সরকারি সিদ্ধান্তের ‘অন্ধ অনুগত’ বিসিবি
অন্যান্য দেশের (ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কা) উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেসব দেশে সরকার সাধারণত অনুমতি বা পরামর্শ দেয়, কিন্তু খেলার সিদ্ধান্তটি থাকে খেলোয়াড় বা বোর্ডের হাতে।
বাংলাদেশে সরকারই সরাসরি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে, যা খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি ‘সমস্যাজনক’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
৩. আইসিসি’র শাস্তির আশঙ্কা ও আর্থিক ক্ষতি
হঠাৎ এমন অনড় অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের নিন্দার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন এই ক্রীড়া সংগঠক।
তিনি উল্লেখ করেন, টুর্নামেন্ট থেকে এভাবে সরে আসা বা শর্ত দেওয়া আইসিসি’র নিয়মের পরিপন্থী হতে পারে, যা শাস্তির পথ প্রশস্ত করে। এবং বাংলাদেশ দল না থাকলে বড় দর্শকগোষ্ঠী হারাবে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্প্রচার চুক্তিতে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৪. রাজনৈতিক কৌশলে পা দেওয়ার অভিযোগ
সৈয়দ আশরাফুল হকের মতে, আলোচনার টেবিলে না বসে শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নেওয়াটা ছিল ভুল কৌশল। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ মূলত ভারতের রাজনৈতিক কৌশলের ফাঁদে পা দিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হলেও বিসিবি সেই পথে যায়নি।
সবশেষে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের অস্তিত্ব রক্ষায় এখন আন্তর্জাতিক মহলে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই। অন্যথায়, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ একঘরে হয়ে পড়ার এবং অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন