বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে গত ২৪ ঘণ্টা যেন এক মহানাটকীয় প্রহসন। একদিকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের নাম মুছে দিয়ে সেখানে স্কটল্যান্ডকে জায়গা দিয়েছে আইসিসি, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য বড়ই হতাশার। আর ঠিক এই ‘বিশ্বকাপ বয়কট’ থেকে দেশবাসীর নজর ঘোরাতে বিসিবি বেছে নিল তাদের পুরোনো অস্ত্র সাকিব আল হাসানকে। বিষয়টি এমন নয়তো?
প্রশ্ন উঠছে, গত ১৬ মাসে যে সাকিবকে নিয়ে বোর্ডের কোনো মাথাব্যথা ছিল না, তাকে কি কেবল বিশ্বকাপ বয়কট ইস্যু ধামাচাপা দেওয়ার ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে? বিসিবির এই আকস্মিক ‘সাকিব-প্রেম’ কি আসলে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে ধুলো দেওয়ার অপকৌশল?
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে যখন পুরো দেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শোকে মুহ্যমান, ঠিক তখনই বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন এক ‘বিস্ফোরক’ সুসংবাদ নিয়ে হাজির হন।
তিনি জানান, সাকিবকে দলে ফেরাতে চায় বিসিবি। শুধু তাই নয়, তাকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখার প্রক্রিয়াও চলছে।
এমন খবর শোনার পর অনেকেরই প্রশ্ন, গতকাল পর্যন্ত যে সাকিবের নিরাপত্তা ইস্যুতে বোর্ড ছিল হাত গুটিয়ে, আজ হঠাৎ কোন জাদুবলে তাকে ফেরাতে বিসিবি মরিয়া হয়ে উঠল? এটি কি বিসিবির ক্রিকেটীয় পরিকল্পনা, নাকি জনরোষ থেকে বাঁচতে এক পরিকল্পিত ‘পাবলিক রিলেশনস স্টান্ট’?
সাকিবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ঝুলে আছে। তিনি দেশে ফিরলে এয়ারপোর্ট থেকে সোজা জেলেও যেতে পারেন—এমন শঙ্কা অমূলক নয়। অথচ আমজাদ হোসেনের কণ্ঠে ছিল অদ্ভুত এক নির্লিপ্ততা; সাকিবের মামলার ইস্যু ব্যক্তিগত, সরকার দেখবে।
এই এক বাক্যে বোর্ড যেন তাদের দ্বিচারিতাই স্পষ্ট করল। যদি আইনি সমস্যার সমাধানই না হয়, তবে সাকিবকে ফেরানোর এই ফাঁপা বুলি কেন? ভক্তদের প্রশ্ন—বিসিবি কি তবে সাকিবের নাম বিক্রি করে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করছে?
বিসিবির ‘মাস্টারপ্ল্যান’ নাকি ধোঁকাবাজি?
গত ১৬ মাস সাকিবের দুঃসময়ে বোর্ড ছিল নির্বিকার। কানপুর টেস্টের পর তাকে ছাড়াই যখন বাংলাদেশের ক্রিকেট এগোচ্ছিল, তখন হঠাৎ এই ‘সাকিব ফেরা’র ডাক সন্দেহ জাগায় অনেকেরই মনে।
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার দায়, সেই ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা বন্ধ করতে সাকিবের প্রত্যাবর্তনের খবর বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা।
এদিকে, সাকিবের সঙ্গে আলাপ হয়েছে বলে দাবি করলেও তাকে মামলার হাত থেকে বাঁচানোর কোনো নিশ্চয়তা বোর্ড দেয়নি। ফলে এই চুক্তি বা ফেরানোর আলাপ কেবলই কাগজে-কলমে রয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
তবে আশারবাণীও শোনা গেছে ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ড কেবল তাকে ‘ক্রিকেটার’ হিসেবে বিবেচনা করছে, বাকি দায়দায়িত্ব সরকারের। তবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাকিবের দেশে ফেরা ও আইনি বিষয় নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন