১৯৯৭ সালে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি ট্রফি জয়ের আনন্দে মেতেছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পথচলা।
আজ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সাল থেকে নিয়মিত প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবার নিজেদের ইচ্ছাতেই সরে দাঁড়িয়েছে এই মহাযজ্ঞ থেকে। দীর্ঘ ২৭ বছর পর সেই স্কটল্যান্ডকে বড় সুযোগ করে দিয়ে ক্রিকেটের কোনো বৈশ্বিক আসরে নেই বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এই অনুপস্থিতির মূলে রয়েছে ভারত ও আইসিসিকে কড়া বার্তা দেওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত আইপিএলের নিলামে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে কিনে নিলেও, ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রতিবাদের মুখে বিসিসিআইর নির্দেশে তাকে দল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ সরকার প্রথমে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে এবং পরবর্তীতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সরকারের অবস্থান অনুসরণ করে ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে ই-মেইল পাঠিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কূটনৈতিক কারণ দেখিয়ে ম্যাচ স্থানান্তরের জোর প্রচেষ্টা চালালেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়।
আইসিসির নির্বাহী সভা জানিয়ে দেয়, সূচি ঘোষণার পর ভেন্যু বদল সম্ভব নয় এবং সব দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইসিসির দায়িত্ব।
তবে বাংলাদেশ সরকার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত।
আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ না মেনে র্যাঙ্কিংয়ে ১৪তম দল স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে সুযোগ করে দেয়। এতে বাংলাদেশের সমস্যার আপাত সমাধান হলেও বিশ্বকাপ হারিয়েছে তার সর্বজনীন গুরুত্ব।
এই ইস্যুতে বাংলাদেশ পাশে পেয়েছিল পাকিস্তানকে। বাংলাদেশ ও ভারতের ম্যাচ স্থানান্তর না হলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। পরে অবশ্য পাকিস্তান সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, তারা বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে। এই ঘটনায় আইসিসি এবং এবারের বিশ্বকাপের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকায় দেশের কোটি ক্রিকেট সমর্থকের ভাবনায় এবারের আসর নিয়ে কোনো উত্তেজনা নেই। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। বিপিএল কাপ দিয়ে প্রস্তুতিও চলছিল পুরোদমে।
ক্রিকেটারদের হতাশা কাটাতে এবং আক্ষেপ ঘোচাতে বিসিবি আয়োজন করেছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’ নামে একটি বিশেষ টুর্নামেন্ট। আড়াই কোটি টাকা প্রাইজমানির এই আসরে জাতীয় দলের তারকারা তিন দলে বিভক্ত হয়ে খেলছেন।
শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের বোর্ডরুমে এক বিসিবি পরিচালক এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে একে তরুণদের জন্য ‘বিশাল প্রাপ্তি’ বলে আখ্যা দেন। যেখানে বিশ্বের ২০টি দেশ বড় মঞ্চে লড়ছে, সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটকর্তারা স্থানীয় এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব প্রমাণেই ব্যস্ত।
সরকারের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ এখন দর্শক। ভারত ও আইসিসিকে কড়া জবাব দিতে পারায় এক পক্ষ খুশি হলেও বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্যের কথা মাথায় রেখে অনেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন