আইসিসি টুর্নামেন্টগুলো মানেই অভিজ্ঞ তারকাদের দাপট, কিন্তু পাশাপাশি নতুন প্রতিভার হঠাৎ উদয় টুর্নামেন্টকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে। তরুণ ক্রিকেটাররা যখন নিজেদের প্রতিভা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে ঝড় তোলেন, তখন ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দের সীমা থাকে না।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে এমন একঝাঁক নতুন প্রতিভার দেখা মিলবে, যারা আগামী বহু বছর বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করবে। এই টুর্নামেন্টের জমকালো আলোয় তারা নিজেদের সেরাটা উপহার দিতে প্রস্তুত।
আসুন জেনে নিই, এবারের বিশ্বকাপে যাদের দিকে সবার নজর থাকবে...
জ্যাকব বেথেল (ইংল্যান্ড)
২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার ইতিমধ্যেই বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। গত মাসে সিডনিতে অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টে ১৫৪ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৫০, যা দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। জস বাটলার এবং ফিল সল্টের সাথে মিলে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারকে ভয়ংকর করে তুলতে পারেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
তিলক বর্মা (ভারত)
তিলক বর্মা এই তালিকার সবচেয়ে পরিচিত নাম, বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে তিনি চারে আছেন। অস্ত্রোপচারের পর সফলভাবে ফিরে এসে ভারতের মূল স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন এই প্রতিভাবান ব্যাটার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার ব্যাটিং গড় প্রায় ৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৪। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির মালিক তিলক ভারতের হয়ে বড় ভূমিকা পালন করবেন।
ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (দক্ষিণ আফ্রিকা)
২২ বছর বয়সী এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটারকে নিয়ে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। তার টি-টোয়েন্টি স্ট্রাইক রেট ১৭১.৩২, যা অবিশ্বাস্য। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৬ বলে ১২৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন তিনি, যা টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
প্রোটিয়াদের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণে ব্রেভিস মূল চাবিকাঠি হতে পারেন।
সিদ্দিকুল্লাহ আতাল (আফগানিস্তান)
আফগানিস্তানের উত্থান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২৪ বছর বয়সী ওপেনার সিদ্দিকুল্লাহ আতাল সেই দলের নতুন সংযোজন। রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং ইব্রাহিম জাদরানের সাথে মিলে তিনি একটি শক্তিশালী টপ অর্ডার তৈরি করবেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সম্প্রতি অর্ধশতক করে তিনি আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছেন।
কুপার কনোলি (অস্ট্রেলিয়া)
২২ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারের প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিগ ব্যাশ লিগে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সাথে যৌথভাবে সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো নিজের জাত চেনাতে পারেননি।
তার বাঁহাতি স্পিন বোলিং এবারের আসরে স্পিন-সহায়ক উইকেটগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য খুব কাজের হতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন