মাঠের লড়াই ছাপিয়ে যা হয়ে ওঠে এক স্নায়ুযুদ্ধ। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। গ্যালারি থেকে ড্রয়িং রুম—সবখানেই যেন সময় থমকে দাঁড়ায়। কিন্তু সাম্প্রতিক আইসিসি ইভেন্টগুলোর পরিসংখ্যানে তাকালে সেই চিরাচরিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝ ফিকে হয়ে আসছে।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের ‘হম্বিতম্বি’কে স্রেফ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একপাক্ষিক আধিপত্য বিস্তার করছে টিম ইন্ডিয়া।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের আধিপত্য প্রশ্নাতীত। সবশেষ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে রোহিত শর্মার দল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিল। বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। অর্থাৎ, ৫০ ওভারের বিশ্বমঞ্চে আজও ভারতের জয়ের খাতা খুলতে পারেনি পাকিস্তান।
তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সেখানেও ভারতের দাপট স্পষ্ট। ২০২১ সালে দুবাইয়ের মাটিতে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে ১০ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। সেটিই ছিল বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিপক্ষে তাদের প্রথম জয়।
কিন্তু সেই জয় যেন এক ক্ষণস্থায়ী আলো। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্নের সেই মহাকাব্যিক ম্যাচে বিরাট কোহলির অতিমানবীয় ইনিংস পাকিস্তানের হাতের মুঠো থেকে জয় কেড়ে নেয়।
সর্বশেষ ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও নিউ ইয়র্কের কঠিন পিচে কম রানের পুঁজি নিয়ে বোলারদের নৈপুণ্যে পাকিস্তানকে হারিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আবারও প্রকট হয়েছে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা।
আইসিসি ইভেন্টে ভারতের ব্যাটিং গভীরতা আর পাকিস্তানের বোলিং ইউনিটের লড়াই চিরকালই ক্লাসিক হিসেবে পরিচিত। তবে শেষ কয়েক বছরে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ের ভঙ্গুরতা এবং ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতা ভারতের জয়ের পথ অনেকটা সহজ করে দিচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন