ফুটবল মাঠে নেইমার জুনিয়র মানেই শিল্পের ছোঁয়া। বয়স ৩৪ পার হলেও তার পায়ের জাদু যে এখনো ফুরিয়ে যায়নি, তার প্রমাণ মিলল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সাম্প্রতিক এক ট্রেনিং ভিডিওতে।
অনুশীলনের সময় অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে নেইমারের দেখানো একটি চমৎকার টেকনিক্যাল স্কিল মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের নজর কেড়েছে। এই ভিডিও ঘিরেই এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—তবে কি ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও হলুদ জার্সিতে দেখা যাবে এই পোস্টার বয়কে?
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। অনেকেরই দাবি, নেইমারের বর্তমান দক্ষতা ও খেলার ধরণ বলে দিচ্ছে তিনি এখনো ব্রাজিল জাতীয় দলে খেলার জন্য পুরোপুরি যোগ্য।
বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তাকে রাখার জোরালো দাবি তুলছেন সমর্থকরা। তবে এই ভাইরাল ক্লিপ কেবল প্রশংসাই কুড়াচ্ছে না, বরং জন্ম দিয়েছে এক বিশাল বিতর্কের।
নেইমারের ক্যারিয়ারে 'আসল সমস্যা' কখনোই প্রতিভা ছিল না। সমালোচকরাও তার টেকনিক্যাল সক্ষমতা নিয়ে খুব কমই প্রশ্ন তোলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৭৯ গোল করে তিনি বর্তমানে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ডের প্রধান বাধা এখন তার শারীরিক নির্ভরযোগ্যতা। ২০২৩ সালে হাঁটুর লিগামেন্টে গুরুতর ইনজুরির পর প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। ক্লাব ফুটবলে ফেরার পর থেকেই নিজের চিরচেনা ছন্দ ফিরে পেতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছেন তিনি।
ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য নেইমারকে দলে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক। তবে তার একটিই শর্ত—নেইমারকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের জন্য শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট।
এলিট পর্যায়ের ফুটবলে যে গতি ও বিস্ফোরণশক্তির প্রয়োজন হয়, ইনজুরি-পরবর্তী সময়ে নেইমারের মধ্যে তার অভাব দেখা গিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় একটি বল ধরতে তাকে যেভাবে দৌড়াতে হিমশিম খেতে দেখা গিয়েছিল, তা নিয়ে অনেক ভক্তই প্রশ্ন তুলেছিলেন যে তার ক্যারিয়ার কি তবে শেষের পথে?
নিজের ফিটনেস ও ফর্ম নিয়ে চলা এই অবিরাম সমালোচনা নিয়ে মুখ খুলেছেন নেইমার নিজেও। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে এই চাপ সামলানো তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন