ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন ক্লাব লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের জার্সিতে পথচলার এক বছর পূর্ণ করেছেন। লাল-সবুজের হয়ে এই সময়টাকে তিনি দেখছেন নিজের জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত হিসেবে।
সম্প্রতি ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২৮ বছর বয়সি এই ফুটবলার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য অসাধারণ এক অনুভূতি। যদিও এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে না পারার আক্ষেপ রয়ে গেছে, তবুও এই অভিজ্ঞতা দলকে ভবিষ্যতের জন্য আরও পরিণত করবে বলেই বিশ্বাস তার। তিনি মনে করেন, ম্যাচগুলোর ভিডিও বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যাবে, গত এক বছরে দল কতটা উন্নতি করেছে।
গত বছরের মার্চে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন হামজা। ১২ মাসে দলের খেলা ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই তিনি মাঠে নেমেছেন; একটি প্রীতি ম্যাচে চোটের কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। যেসব ম্যাচ খেলেছেন, প্রায় সবগুলোতেই পুরো সময় মাঠে থেকে দলের ভরসার প্রতীক ছিলেন এবং করেছেন ৪টি গোল।
এই সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে দীর্ঘ ২২ বছর পর জয়। পাশাপাশি, এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ কোনো ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হারেনি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও ভারত, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দল। ২০০০ সালের পর এই প্রথম বাছাইপর্বে গ্রুপের তলানিতে না থেকে শেষ করার কৃতিত্বও এসেছে এই সময়েই।
হামজার মতে, এই অগ্রগতি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি বড় ধাপ। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের মতো দলের মাঠে গিয়ে যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ, তা নিয়ে গর্ব করার যথেষ্ট কারণ আছে। তিনি আশা করেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শেষ বাছাই ম্যাচেও দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ৩০ হাজার দর্শকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা পুরো ম্যাচজুড়ে দলকে সমর্থন দিয়েছেন। তাদের এই ভালোবাসায় মুগ্ধ হামজা জানান, সমর্থকদের এমন নিঃস্বার্থ সমর্থন তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়া সহজ নয়।
প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন সামনে এগিয়ে যেতে চান এই মিডফিল্ডার। তার দৃষ্টি এখন আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। এর আগে কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনাও রয়েছে। হামজার প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দল শিরোপার জন্য লড়বে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে বড় লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলেছেন তিনি পরেরবার মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন