× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. নজরুল ইসলাম খান ক্রীড়া সম্পাদক, ঢাকা প্রেসক্লাব, ঢাকা

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ১১:১১ এএম

তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের শীর্ষ নেতাদের আশ্রয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি কামরুজ্জামান চঞ্চল

মো. নজরুল ইসলাম খান ক্রীড়া সম্পাদক, ঢাকা প্রেসক্লাব, ঢাকা

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ১১:১১ এএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হওয়ার পরও মো. কামরুজ্জামান চঞ্চল ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন মহলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে । এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারা সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) এরশাদুল হক, আওয়ামী পন্থি সভাপতি হাসানুজ্জামান বাবলু এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মরিয়ম বেগম ইতির বিরুদ্ধে সরাসরি এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে রক্ষা ও সহযোগিতার অভিযোগ ওঠায় তায়কোয়ানডো ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

গত ২ মার্চ-২০২৫ রাজশাহী বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টার মামলার ৪২ নম্বর আসামি হওয়া সত্ত্বেও কামরুজ্জামান চঞ্চলের রাজনৈতিক প্রভাব ও ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকদের সাথে সুসম্পর্ক রহস্যের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট-২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলার নেতৃত্ব দেওয়া এই ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ না করে উল্টো ফেডারেশনের মাধ্যমে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আন্তর্জাতিক রেফারি প্রশিক্ষণে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) এরশাদুল হক এবং সভাপতি হাসানুজ্জামান বাবলুর প্রশ্রয়েই চঞ্চল অপরাধ করেও বুক ফুলিয়ে দেশে ও বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ফেডারেশনের এই শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে চঞ্চলের পক্ষ নিয়ে প্রতিহিংসামূলক আচরণের অভিযোগও বেশ পুরোনো। অভিযোগ আছে যে, চঞ্চলের ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় আন্তর্জাতিক পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় দিপু চাকমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ক্যাম্প থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সদস্য মরিয়ম বেগম ইতি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়।

ফেডারেশনের এই প্রভাবশালী বলয়টি চঞ্চলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে তাকে ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা পাইয়ে দিতে এবং  আন্তর্জাতিক ইভেন্টে তাকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তিনি যে ‘এআরসি গ্লোবাল তায়কোয়ানডো একাডেমি’-তে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তাতেও ফেডারেশন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নীরব সমর্থন রয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একজন হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি যখন ফেডারেশনের শীর্ষ নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতায় ক্রীড়াঙ্গনে দাপট দেখান, তখন তা সামগ্রিক ক্রীড়া খাতের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। খেলোয়াড়দের অভিযোগ, এরশাদুল হক, হাসানুজ্জামান বাবলু ও মরিয়ম বেগম ইতির মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন ফ্যাসিবাদপন্থি অপরাধীকে রক্ষা করার এই নগ্ন প্রয়াস দেশের তায়কোয়ানডো ক্রীড়াকে কলঙ্কিত করছে।

ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে, ফেডারেশনের এই নেতৃবৃন্দ কেন একজন দাগি আসামিকে নিয়ে এত তৎপর—তা নিয়ে এখন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চক্রের ছত্রছায়ায় চঞ্চল পার পেয়ে গেলেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এই ফেডারেশন থেকে ফ্যাসিবাদী দোসরদের দ্রুত অপসারণ করা জরুরি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!