বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) এথিকস কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মানবাধিকারভিত্তিক সংস্থা ফেয়ার স্কয়ার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশ্ব ফুটবলের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সংস্থাটির দাবি, একজন ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার যে নীতি রয়েছে, ইনফান্তিনো একাধিক ক্ষেত্রে তা লঙ্ঘন করেছেন।
ফেয়ার স্কয়ার বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো প্রভাব ছিল কিনা, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইনফান্তিনো ট্রাম্পের অভিষেক উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসাসূচক বার্তা প্রকাশ করেছেন, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন এবং ফিফার একটি শান্তি পুরস্কারও তার হাতে তুলে দিয়েছেন। অভিযোগকারীদের মতে, এসব পদক্ষেপ আইওসির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর আগে একই অভিযোগ ফিফার নিজস্ব এথিকস কমিটির কাছেও জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগকে সমর্থন জানিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ফিফা বা আইওসি আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ফেয়ার স্কয়ারের প্রধান নির্বাহী নিক ম্যাকগিহান বলেন, ফিফা যদি নিজেদের সভাপতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনায় ব্যর্থ হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দায়িত্ব আইওসির। তার ভাষ্য, আইওসির সদস্য হিসেবে ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর চলাকালীন এই অভিযোগ ফিফার জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত শুরু হলে ইনফান্তিনোর ভূমিকা এবং ক্রীড়া প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।

