টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে গতকাল এক অনুষ্ঠানে নিজের মতামত জানান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
তিনি বলেন, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রেখেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
তামিমের এই মন্তব্যের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও বোর্ডের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম।
পোস্টে তিনি লেখেন, এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখল। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হলেও ততক্ষণে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে এমন মন্তব্যের কারণ জানতে নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে তিনি আবারও ‘ফ্রেন্ডস’ প্রাইভেসিতে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, মুস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্রীড়া উপদেষ্টা আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের বিষয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনার জন্য বিসিবিকে অনুরোধ করেছিলেন।
এ সিদ্ধান্তে পররাষ্ট্র উপদেষ্টারও সমর্থন ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের অনুভূতির বাইরে গিয়ে তামিম ইকবাল ভারতের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন নাজমুল ইসলাম। তবে স্ট্যাটাসের শেষে তিনি দাবি করেন, এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত।
এ ঘটনায় এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি তামিম ইকবাল। তবে জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক একাধিক ক্রিকেটার প্রকাশ্যে নাজমুল ইসলামের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জাতীয় দলের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ফেসবুকে লেখেন, সাবেক জাতীয় অধিনায়ককে নিয়ে বোর্ড পরিচালকের এমন মন্তব্য রুচিহীন, অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির পরিপন্থি। তিনি সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান।
সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক বলেন, তামিম ইকবালের মতো একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে জনসম্মুখে অপমান করা বোর্ডের দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিসিবির দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, দেশের ক্রিকেটে বড় অবদান রাখা একজন সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য ক্রিকেটের স্বার্থে সহায়ক নয়। তিনি ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন।
এ ঘটনায় ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) বিসিবির কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোয়াব জানায়, তামিম ইকবালের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল ওপেনারকে নিয়ে বোর্ড পরিচালকের মন্তব্যে তারা স্তব্ধ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।
কোয়াব আরও জানায়, শুধু তামিম ইকবাল নন, দেশের যেকোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য পুরো ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক। একজন দায়িত্বশীল বোর্ড কর্মকর্তা যখন প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দেন, তখন বোর্ড কর্মকর্তাদের আচরণবিধি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন