× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

জাহিদ হাসান মাহা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

ভারতের আধিপত্যে ‘অস্তিত্ব’ সংকটে ক্রিকেট

জাহিদ হাসান মাহা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ক্রিকেটকে বলা হয় ‘ভদ্রলোকের খেলা’। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটের সমীকরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের ‘পাওয়ার পলিটিক্স’ এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। 

জন্ম ইংল্যান্ডে হলেও ক্রিকেটের রিমোট কন্ট্রোল এখন বিসিসিআই-এর হাতে। আইসিসি কি এখন কেবলই ভারতের আজ্ঞাবহ কোনো সংস্থা? এমন প্রশ্ন এখন ক্রিকেট বিশ্বের অন্দরে জোরালো হয়ে উঠেছে।

অর্থের কাছে কি জিম্মি আইসিসি?

বিশ্ব ক্রিকেটের আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৮০ শতাংশ) আসে ভারতীয় বাজার থেকে। এই অর্থনৈতিক নির্ভরতাকে পুঁজি করেই বিসিসিআই আজ আইসিসি-র ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। 

টুর্নামেন্টের ভেন্যু নির্ধারণ, সম্প্রচার সময় (ব্রডকাস্টিং টাইম) এমনকি খেলার সূচিও তৈরি হয় ভারতের দর্শকদের সময় ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে।

বর্তমানে আইসিসি সভাপতির চেয়ারে রয়েছেন ভারতের জয় শাহ। ফলে আইসিসির নীতিগত সিদ্ধান্তে ভারতের প্রভাব যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

অভিযোগ উঠছে, আইসিসি এখন স্বাধীন কোনো সংস্থা নয়, বরং ভারতের কৌশলগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

টার্গেটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ?

ভারতের এই ‘ক্রিকেটীয় কূটনীতির’ সবচেয়ে বড় শিকার প্রতিবেশী দেশগুলো। রাজনৈতিক অজুহাতে বছরের পর বছর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রাখা এবং আইসিসি ইভেন্টে পাকিস্তানকে ভেন্যু বা নিরাপত্তা ইস্যুতে চাপে রাখা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এবং আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোতে ভারতের জন্য হোম কন্ডিশনের সুবিধা বা সুবিধাজনক সূচি নির্ধারণের অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো আইসিসির রহস্যজনক নীরবতা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি অনেকের কাছেই রহস্যজনক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা প্রশ্নাতীত, তাকে বিনা কারণে ছেঁটে ফেলা কি নিছক ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে কোনো প্রচ্ছন্ন প্রতিহিংসা কাজ করছে?

মুস্তাফিজকে নিরাপত্তার অজুহাতে বাদ দেওয়ার পর,  বিসিবি তখনি জানিয়ে দিয়েছে যারা (ভারত) একজনকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না তারা বিশ্বকাপে এতজনকে কিভাবে নিরাপত্তা দিবে?

এমন পরিস্থিতিতে বিসিবি আইসিসিকে জানায়, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না টাইগাররা। ভারতের পরিবের্তে বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় বিসিবি।

বাংলাদেশের এমন অনুরোধে ক্রিকেট বিশ্বের অভিভাবক আইসিসি গতকাল ২১ জানুয়ারি এক সভা শেষে জানান, বাংলাদেশ যদি সিদ্ধান্ত না বদলায়, তবে তাদের ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের দশম আসর।

আইসিসি জানায়, টুর্নামেন্টের সূচি বা ভেন্যু কোনোভাবেই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট বয়কট করে, তবে র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সংস্থাটি। 

সভায় ১৬ জন বোর্ড পরিচালকের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তান ছাড়া বাকি সবাই বিসিবির দাবির বিপক্ষে এবং আইসিসির অনড় অবস্থানের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

এদিকে, ক্রিকেট যখন একটি নির্দিষ্ট দেশের ইচ্ছায় চলে, তখন তা আর 'বিশ্ব ক্রিকেট' থাকে না—তা হয়ে ওঠে একক আধিপত্যের প্রদর্শনী।

এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরাসরি প্রতিবাদ করলেও অনেক দেশই এখন ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করে। এর মূল কারণ সম্ভবত আর্থিক ক্ষতি ও আইপিএল-এর মোহ। 

বিশ্বের অধিকাংশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়ের একটি বড় অংশ আসে ভারতের সাথে সিরিজ খেলে। ফলে ভারতের বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি কেউ নিতে চায় না।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!