মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়ে গেল বিপিএলের আরেকটি আসর। নিলামের দিন থেকেই শক্তিশালী দল গড়ে আলোচনায় ছিল রাজশাহী। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলগত পারফরম্যান্সে ভর করেই শিরোপা জিতেছে দলটি। তবে ব্যাটিং কিংবা বোলিং, কোনো বিভাগেই শীর্ষে থাকতে পারেননি রাজশাহীর কোনো ক্রিকেটার।
এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ রান করেছেন সিলেট টাইটান্সের পারভেজ হোসেন ইমন। ১২ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৩৯৫ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ৬৫ রানের। এই বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে তিনটি হাফসেঞ্চুরি।
রংপুর রাইডার্সের তাওহীদ হৃদয় ১১ ম্যাচে ৩৮২ রান করে আছেন দ্বিতীয় স্থানে। নোয়াখালীর বিপক্ষে ১০৯ রানের ইনিংসটি ছিল এবারের আসরের সেরা ব্যক্তিগত ইনিংস। তার ঝুলিতে আছে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটি।
তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছেন রাজশাহীর দুই ব্যাটার। তানজিদ হাসান তামিম ১৩ ম্যাচে করেছেন ৩৫৬ রান। তার সর্বোচ্চ ইনিংস ১০০ রান—সঙ্গে একটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফসেঞ্চুরি। নাজমুল হোসেন শান্ত একই সংখ্যক ম্যাচে ৩৫৫ রান করে চতুর্থ। শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি, সর্বোচ্চ ১০১ রান।
রংপুরের ডেভিড মালান ৯ ম্যাচে ৩০০ রান করে পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ৭৮ রান, ফিফটি তিনটি।
বোলিং বিভাগে এবার নতুন রেকর্ড গড়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের শরিফুল ইসলাম। রানার্সআপ দলের এই পেসার ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ২৬ উইকেট। ৯ রানে ৫ উইকেট তার সেরা বোলিং। গত আসরে তাসকিন আহমেদের ২৫ উইকেটের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন শরিফুল।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি সিলেটের নাসুম আহমেদ। ১২ ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে ১৮ উইকেট, সেরা বোলিং ৭ রানে ৫ উইকেট। রাজশাহীর রিপন মন্ডল ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে আছেন তিনে। তাঁর সেরা বোলিং ১৩ রানে ৪ উইকেট।
নোয়াখালীর হাসান মাহমুদ ১০ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে চতুর্থ। তাঁর সেরা বোলিং ২৬ রানে ৪ উইকেট। একই সংখ্যক উইকেট নিয়েছেন রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্ডো (১১ ম্যাচ, ১৯ রানে ৪ উইকেট) ও রংপুরের মুস্তাফিজুর রহমান (১০ ম্যাচ)।
১৫ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে আছেন চট্টগ্রামের মেহেদী হাসান ও আমির জামাল। তাঁদের সেরা বোলিং যথাক্রমে ১২ রানে ৩ উইকেট এবং ৩৪ রানে ৪ উইকেট।
এবারের আসরে সর্বোচ্চ ছক্কা মেরেছেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান তামিম—দুজনেরই ১৯টি করে। মোট সেঞ্চুরি হয়েছে চারটি—হাসান ইসাখিল, তাওহীদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদের ব্যাট থেকে। ফিল্ডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ১০টি করে ক্যাচ নিয়েছেন রংপুরের লিটন দাস ও রাজশাহীর তানজিদ।
দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহেও এবার দেখা মেলেনি দুইশ পারের। আসরের সর্বোচ্চ দলীয় রান ছিল ১৯৮—চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে সিলেট টাইটান্সের করা।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন