দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দেশের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নবনিযুক্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের দায়িত্ব গ্রহণ এবং বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তার পূর্বের কঠোর অবস্থান বোর্ড কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি করেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বর্তমান বোর্ড শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, নাকি বড় কোনো পরিবর্তনের মুখে পড়বে—তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে বইছে গুঞ্জনের হাওয়া।
সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যেই সরব ছিলেন আমিনুল হক। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার সেই অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলে বিসিবির বর্তমান কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ব্যক্তিগত কারণে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দেওয়ায় সেই গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলেছে।
তবে বোর্ডের শীর্ষ পরিচালকরা এখনই সংঘাতের পথে হাঁটতে নারাজ। তাদের মতে, রাজপথের বক্তব্য আর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকে।
বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনেই সব ফেডারেশন। আমাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সুসম্পর্ক সব সময় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।
একই সুরে কথা বলেছেন আরেক পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারে আসার আগের এবং পরের কথার মধ্যে অবশ্যই ভিন্নতা থাকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর উনি নিশ্চয়ই বাস্তবসম্মতভাবে বিষয়টি দেখবেন। আমরা আমাদের নিয়ম অনুযায়ী চলছি, সরকার বিবেচনা করবে কীভাবে কী চালাতে হবে।
অন্যদিকে, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, উনি যখন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন না, সে সময়ের স্টেটমেন্ট আর এখনকার স্টেটমেন্টের মধ্যে ফারাক থাকবে। এখন উনি অনেক বিষয় চিন্তা করবেন। শুধু ক্রিকেট নয়, পুরো দেশের খেলাধুলা নিয়েই তিনি ইতিবাচক নজর দেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হতে পারে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার)। এদিন দেশের সব ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন