× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

জাহিদ হাসান মাহা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দুই আসিফের ১৮ মাস

জাহিদ হাসান মাহা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

আসিফ নজরুল ও আসিফ মাহমুদ সজীব। ছবি : সংগৃহীত

আসিফ নজরুল ও আসিফ মাহমুদ সজীব। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের যে সোনালি অধ্যায় ২০১৫ সালে মাশরাফি বিন মর্তুজার হাত ধরে শুরু হয়ে সাকিব-তামিমদের হাত ধরে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল, তা ১৮ মাসের দুঃশাসনে এক নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে— এমন মন্তব্যই ঘুরপাক খাচ্ছে অনেক ক্রীড়ানুরাগীর মুখে মুখে; বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত— এই সময়কালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে অনেক নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে গেছে।

পাপন যুগের অবসানের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, দেশের ক্রিকেটে এবার হয়তো আরও ভালো কিছু হতে চলেছে। ‘আসিফ’দ্বয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হয়তো ফিরে পাবে সেই সোনালি যুগ। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি; বরং বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপেই খেলা হয়নি।

আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট এবং চেয়ার ছাড়েন ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। ১৬ মাস ১ দিন দায়িত্ব পালনের পর আসিফ মাহমুদ দায়িত্ব ছাড়লে তা গিয়ে পড়ে আসিফ নজরুলের কাঁধে। আসিফ নজরুল অবশ্য বেশি দিন পদে ছিলেন না, কিন্তু তার সময়কালও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এই দুই আসিফের সময়টা ছিল ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন ও কলঙ্কিত’।

সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে দল কেবল মনোবলই হারায়নি, হারিয়েছে আরও অনেক কিছু। অপরদিকে আসিফ মাহমুদ দায়িত্ব ছাড়ার পর স্বল্প সময়ের জন্য ক্রীড়া উপদেষ্টার চেয়ারে বসে ‘মনগড়া’ সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে আসিফ নজরুলকেও। তার ‘মনগড়া’ সিদ্ধান্তে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেতে পারেনি টাইগাররা।

সাবেক এক খেলোয়াড় মন্তব্য করে বলেছেন, ক্রিকেট উন্নয়নের নামে আসিফ মাহমুদ যা করেছেন, তাতে মূলত দেশের ক্রিকেটের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দেশের ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়’ সাকিব আল হাসানকে থাকতে হয়েছে মাঠের বাইরে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ড সাকিবকে খেলানোর পক্ষে ছিল। এমনকি সাকিবের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও ভুয়া মামলা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলার সাহসও সঞ্চয় করছিল বোর্ড। কিন্তু আসিফ মাহমুদের কারণে সে সময়ে কেউ সাকিবের নাম মুখে আনার সাহস পায়নি। ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তিনি ক্রিকেটকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিসিবিকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে না দিয়ে পেছন থেকে নিজের ইচ্ছেমতো বোর্ড চালাতেন আসিফ মাহমুদ। ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনে বেশিরভাগ পদে তার পছন্দের লোক বসানো হয়েছে। ভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তিদের ঠান্ডা মাথায় নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। যে নির্বাচন স্বচ্ছ হওয়ার কথা ছিল, তা হয়েছে অনেকটা বিতর্কিত।

এতকিছুর পরও সাবেক উপদেষ্টারা দাবি করতেন, উন্নয়ন হয়েছে! কিন্তু র‍্যাঙ্কিংয়ের পরিসংখ্যান বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। যেমন:

টেস্ট: ২০২৪ সালে রেটিং ছিল ৮২, ২০২৬ সালে এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৩-তে!

ওডিআই: ৯২ রেটিং থেকে নেমে হয়েছে ৭৬!

টি-টোয়েন্টি: ২২৮ রেটিং থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২২৩-এ!

এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, তাদের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কতটা ‘উন্নয়ন’ হয়েছিল।

এদিকে, আসিফ মাহমুদ ও আসিফ নজরুলদের বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটার পর বিসিবি অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। বর্তমান বোর্ড সাকিবের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

Link copied!