ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অধ্যায় শুরুর রেশ কাটতে না কাটতেই আইনি ময়দানে বড় জয় পেলেন ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান। সাবেক স্ত্রী আয়েশা মুখার্জির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিবাদে ধাওয়ানের পক্ষেই রায় দিল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিতর্কিত সম্পত্তি সেটেলমেন্ট বাবদ নেওয়া প্রায় ৫.৭ কোটি টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) ধাওয়ানকে ফেরত দিতে হবে আয়েশাকে।
বিচারক দেবেন্দ্র কুমার গর্গের নেতৃত্বাধীন ফ্যামিলি কোর্ট গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে জানিয়েছে, ধাওয়ানের বৈবাহিক বিবাদে অস্ট্রেলিয়ার ফ্যামিলি কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা ভারতে কার্যকর বা বাধ্যতামূলক নয়।
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, হিন্দু বিবাহ আইনের অধীনে ওই বিদেশি আদেশগুলো ‘ভারতীয় আইনি নীতির পরিপন্থী’।
মামলার শুনানিতে ধাওয়ান অভিযোগ করেছিলেন, ২০১২ সালে বিয়ের পর থেকেই আয়েশা তার ক্যারিয়ার এবং সামাজিক সম্মানহানি করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ধাওয়ানের দাবি, নিজের উপার্জিত অর্থে কেনা সম্পত্তির প্রায় ৯৯ শতাংশ মালিকানা আয়েশার নামে লিখে দিতে তাকে বাধ্য করা হয়েছিল।
আদালত ধাওয়ানের এই যুক্তি গ্রহণ করে জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া সম্পত্তি ভাগাভাগির চুক্তিটি ‘ভয়ভীতি, জবরদস্তি এবং প্রতারণার’ মাধ্যমে করা হয়েছিল। ফলে ওই চুক্তিকে ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে ঘোষণা করেছেন বিচারক।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আয়েশা মুখার্জিকে অস্ট্রেলিয়ার দুটি সম্পত্তি (বেরউইক ও ক্লাইড নর্থ) বিক্রির লভ্যাংশ বাবদ পাওয়া মোট ৮,৯৪,৩৯৭ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ফেরত দিতে হবে। এর পাশাপাশি, মামলা দায়ের করার তারিখ থেকে পুরো টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালের অক্টোবরে ‘মানসিক নিষ্ঠুরতা’র দায়ে ধাওয়ান ও আয়েশার বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করেছিল দিল্লির আদালত।



