আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার এইট পর্বে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা। দিল্লির ঐতিহাসিক অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সিকান্দার রাজার লড়াই ব্যর্থ করে দিয়ে ১৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় প্রোটিয়ারা।
এ দিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তবে শুরুতেই প্রোটিয়া পেসারদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার।
দলীয় ৪ রানেই তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠান কুয়েনা মাফাকা। ব্রায়ান বেনেট (১৫) ও ডিওন মেয়ার্স দ্রুত বিদায় নিলে ৬৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
চাপের মুখে দাঁড়িয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ব্যাট হাতে ৪৩ বলে ৭৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যাতে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার মার।
শেষদিকে ক্লাইভ মাদান্দের অপরাজিত ২৬ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে মাফাকা ও করবিন বোশ ২টি করে উইকেট নেন।
১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই অভিজ্ঞ কুইন্টন ডি কককে ফেরান সিকান্দার রাজা। এরপর অধিনায়ক এইডেন মার্করামকেও (৪) দ্রুত বিদায় করে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দেন রাজা।
তবে তৃতীয় উইকেটে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও রায়ান রিকেলটন। বিশেষ করে ব্রেভিস ছিলেন মারকুটে স্বভাবে। মাত্র ১৮ বলে ৪২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। ২৩৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটের এই ইনিংসে ভর করেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রোটিয়ারা। রিকেলটন করেন ৩১ রান।
মাঝপথে ডেভিড মিলারের (২২) উইকেট হারালেও ট্রিস্টান স্টাবস (২১*) ও জর্জ লিন্ডের (৩০*) অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার।
জিম্বাবুয়ের হয়ে সিকান্দার রাজা ২৯ রানে ৩ উইকেট নিলেও বাকি বোলাররা প্রোটিয়া ব্যাটারদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। ১৭.৫ ওভারেই ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
এই জয়ের ফলে সুপার এইট পর্বে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করে এইডেন মার্করামের দল।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ১৫৩/৭ (২০ ওভার) — রাজা ৭৩, মাদান্দে ২৬; মাফাকা ২/২৮।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৫৭/৫ (১৭.৫ ওভার) — ব্রেভিস ৪২, রিকেলটন ৩১, লিন্ডে ৩০*; রাজা ৩/২৯।
ফলাফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে জয়ী।



