বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বুলবুলের কমিটি গঠনের পর থেকেই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা চলছিল। এরই প্রেক্ষিতে মাত্র ছয় মাসের মাথায় বড় পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
বিসিবির গঠনতন্ত্রে অ্যাডহক কমিটির কোনো উল্লেখ নেই। সাম্প্রতিক তিনটি নির্বাচনও অ্যাডহকের অধীনে হয়নি। তাই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এই কমিটি আইনসম্মত কি না? এনএসসি অবশ্য আশা করছে, আইসিসি এই কমিটিকে স্বীকৃতি দেবে।
এনএসসি অ্যাক্ট ২০১৮-এর ধারা ২১ অনুযায়ী, কোনো জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটি যথাযথ দায়িত্ব পালন না করলে বা সংস্থার স্বার্থবিরোধী কাজ করলে পরিষদ সেই কমিটি ভেঙে দিতে এবং প্রয়োজনে অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে পারে। এই আইনি ক্ষমতাবলেই এনএসসি এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এনএসসি জানিয়েছে, বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বিসিবির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে গঠনতন্ত্রের ৯.৩.৩ ধারা অনুসারে, ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়নের ক্ষেত্রে সভাপতির একক ক্ষমতা নেই। কিন্তু বুলবুল এককভাবে এই মনোনয়ন করেছেন, যা স্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মনে করছে এনএসসি।
আমিনুল এহসান বলেন, ‘এটি বিসিবি সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন। সংস্থার স্বার্থের পরিপন্থি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আমিনুল এহসান বলেন, ‘ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়ন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনমনে সৃষ্ট সন্দেহ দূর করার জন্যই এই উদ্যোগ। আমরা আশা করছি, আইসিসি থেকে ইতিবাচক সাড়া পাব শিগগিরই।’
তবে এ অ্যাডহক কমিটি কতটা সফলভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে তা সময়ই বলে দেবে।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের এ কমিটি তিন মাসের জন্য দায়িত্ব পালন করবে। এর মূল কাজ হবে বিসিবির নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া এবং শিগগিরই নির্বাচনের আয়োজন করা।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন : রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন