রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসান অবশেষে বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দেশে ফিরতে পারেন বলে আশাবাদী তিনি।
সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম ২০২৬’-এর জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘স্পোর্টস্টারকে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পোস্টার বয়।
সাকিব বলেন, ‘আমি আশাবাদী- বছরের শেষ দিকে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত- আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু এটাই যে কত দ্রুত তা ঘটতে পারে।’ সাকিব এও বলেন, ‘চলতি বছরের শেষ দিকে দেশে ফিরতে পারব। তবে সেটা কিভাবে ঘটবে জানি না।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পর আর দেশে ফেরা হয়নি সাকিবের। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এরপর থেকেই তিনি পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
তবে চলতি বছরের শুরুতে সাকিবকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তখন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড তার আইনজীবীদের কাছ থেকে মামলার কাগজপত্র সংগ্রহ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল।
সে সময় বিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে পারেন সাকিব। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
সাকিবের দাবি, আগের বোর্ড ফেরানোর আগ্রহ দেখালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি বলেন, ‘মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবায়িত করা- দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এখনও আমি শুনি যে সবাই আমাকে ফেরাতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- সত্যিকার অর্থে কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’
এদিকে বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালও সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সাকিবকে নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, আমাদের আরও দুই সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি ও দুর্জয় ভাইও একই অবস্থায় আছেন। তাদের নিয়েও ভাবা উচিত।’
বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্ট খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। এরপর আর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেননি তিনি। তবে এর আগে একাধিকবার দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

