ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ সাবেক ফুটবল অধিনায়কদের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৪:০৭ পিএম
বেগম খালোদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও তার বিশেষ আগ্রহ ছিল বলে জানিয়েছেন ক্রীড়াবিদরা। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ছাইদ হাসান কানন গণমাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্মৃতির কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন তিনি। সে সময় খালেদা জিয়া নিয়মিত তার নির্বাচনি খোঁজখবর নিতেন।

কানন বলেন, এক রাতে ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানোর সময় ম্যাডাম পেছন থেকে ডেকে বলেছিলেন— ‘তোমার ছবিগুলো সুন্দর হয়েছে।’ এই স্মৃতি আজও তার মনে গেঁথে আছে বলে জানান তিনি।

দলীয় ও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মধ্যেও খেলাধুলার প্রতি খালেদা জিয়ার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে কানন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি শারীরিক শিক্ষা বিভাগে যোগ দেন। এ ক্ষেত্রে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে খালেদা জিয়া কথা বলেছিলেন বলেও জানান তিনি।

কাননের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া তাকে দেখলে স্নেহভরে ‘মোহামেডানের কানন’ বলে ডাকতেন।

২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হলে খেলোয়াড়দের বিশেষ সম্মাননা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের সবাই ৫ কাঠা করে প্লট পেয়েছিলাম। এ রকম সম্মান আর কখনো পাইনি।’

ফুটবলাররা সরকারি কিস্তিতে প্লটের অর্থ পরিশোধ করেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেকে ৪ লাখ টাকা করে পান, যা কিস্তির অর্থ পরিশোধে সহায়ক হয় বলে জানান তারা।

বাংলাদেশের ফুটবলের দুটি ঐতিহাসিক অর্জনের সময়ই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৫ সালে চার জাতি ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় এবং ২০০৩ সালের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়ন— দুটিই তার শাসনামলে অর্জিত হয়।

১৯৯৫ সালে মিয়ানমার থেকে ফিরে রাতেই ফুটবলারদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে সংবর্ধনা দেন তিনি।