শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনালে রোনান সুলিভানের শেষ শটটি ভারতের গোললাইন অতিক্রম করতেই গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় প্রবাসীদের বাঁধভাঙা উল্লাস।
গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে ভারতের কাছে টাইব্রেকারে হারের মধুর প্রতিশোধ নিয়ে আবারও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। টাইব্রেকারে ভারতের নেওয়া প্রথম শটটি অসামান্য দক্ষতায় রুখে দিয়ে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন তিনি।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই মাহিন ছিলেন দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে, হজম করেছেন মাত্র একটি গোল। ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের গ্লাভস উঠেছে তার হাতে।
শিরোপা জয়ের পর মাহিন বলেন, প্রথম শটটি ঠেকিয়ে দেওয়ার পর আমার মনে হয়েছে দেশের ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণ করতে চলছি।
গত বছর ভারতের কাছে হারের আক্ষেপ মনে রেখে তিনি আরও বলেন, চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে আমি অনেক খুশি। আমার বন্ধু আশিককে এই ট্রফি উৎসর্গ করছি। আমরা একসঙ্গেই এই টুর্নামেন্টের লড়াই শুরু করেছিলাম।
এবারের আসরে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন আমেরিকান প্রবাসী রোনান সুলিভান। পুরো টুর্নামেন্টে শৈল্পিক ফুটবল উপহার দিয়ে তিনি ৪ ম্যাচে ২ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও এক গোল।
ফাইনালের টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপ সামলে জয়সূচক শেষ গোলটিও আসে তার পা থেকে। যদিও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার পেয়েছেন ৩ গোল করা ভারতের ওমাং দুদুম। যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন মালদ্বীপের ইলান ইমরান তৌহিদও।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচে গ্যালারি মাতিয়ে রাখা এই সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মিঠু।
ট্রফি জয়ের পর তিনি বলেন, প্রবাসীরা আমাদের যে সমর্থন দিয়েছেন তা অবিশ্বাস্য। আমরা তাদের একটি ট্রফি উপহার দিতে চেয়েছিলাম এবং সেটি পেরেছি। এবং বাংলাদেশ অ-২০ দলের ফুটবলাররা এই শিরোপা দেশবাসীকে উৎসর্গ করেছেন।



