সৌদি আরবের ক্লাব ফুটবলে এখন নক্ষত্রদের মেলা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার কিংবা করিম বেনজেমার মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো মাতিয়ে রাখছেন সৌদি প্রো লিগ। কিন্তু গ্ল্যামার আর প্রচারের আলোয় থাকা এসব মহাতারকাদের ছাপিয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একজন ‘অখ্যাত’ ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার—ওয়েনডেল গ্যালেনো।
পর্তুগিজ লিগ থেকে প্রায় ৫ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে আল আহলি সৌদি এফসিতে যোগ দিয়েছিলেন গ্যালেনো। রোনালদো বা নেইমারদের তুলনায় তার তারকাখ্যাতি হয়তো নগণ্য, কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি নিজেকে প্রমাণ করছেন অন্য উচ্চতায়।
বিশেষ করে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে তিনি হয়ে উঠেছেন আল আহলির প্রধান ভরসা।
গ্যালেনোর আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার বলতে ব্রাজিলের জার্সিতে মাত্র আট মিনিটের এক প্রীতি ম্যাচ। অথচ সেই ‘ওয়ান-ক্যাপ ওয়ান্ডার’ এখন এশিয়াজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করছেন।
ঘরোয়া লিগে ৩৪ ম্যাচে মাত্র ৪ গোল করে অনেকটা সাদামাটা মনে হলেও, মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে তার গোল করার দক্ষতা বিস্ময়কর। গত দুই মৌসুমে বড় ম্যাচগুলোতে দলের প্রয়োজনে জ্বলে ওঠার এক অনন্য নজির গড়েছেন এই ২৮ বছর বয়সী ফুটবলার।
সোমবার রাতে ভিসেল কোবের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আল আহলি। যখন ইভান টোনি, রিয়াদ মাহরেজ বা ফ্রাঙ্ক কেসিদের মতো বিশ্বসেরা তারকারা গোলের জন্য লড়াই করছিলেন, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন গ্যালেনো।
গোলপোস্ট থেকে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে করা তার এক রকেট গতির শট সরাসরি টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ালে সমতায় ফেরে দল। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে নাম লেখায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
গ্যালেনোর এমন কীর্তি এবারই প্রথম নয়। গত বছরের ফাইনালে কাওয়াসাকি ফ্রন্টালের বিপক্ষে তার বাঁকানো শটেই শিরোপা জিতেছিল আহলি।
এমনকি এবারের কোয়ার্টার ফাইনালেও জোহর দারুল তা'জিমের বিপক্ষে একই কায়দায় গোল করে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছিলেন তিনি। তিনটি বড় ম্যাচে তিনটি ‘বিস্ময়কর গোল’ তাকে সৌদি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কার্যকর খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
দলের এই সাফল্য নিয়ে আল আহলির জার্মান কোচ ম্যাথিয়াস জেইসেল বলেন, এই টুর্নামেন্টে টিকে থাকা মোটেও সহজ নয়। আমরা বারবার পিছিয়ে পড়েও যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, তা অবিশ্বাস্য। আমার দলের ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল এবং আমরা এখন আবারও শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গ্যালেনো জানান, দলের প্রয়োজনে অবদান রাখাই তার মূল লক্ষ্য।



