ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপের আগে চোটের মহামারি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১১ জুন থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের। অথচ মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ফুটবল বিশ্বে এখন আতঙ্কের নাম ‘ইনজুরি’। বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র ৪৬ দিন, কিন্তু এর মধ্যেই তারকা খেলোয়াড়দের চোটের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। 

কেউ ছিটকে গেছেন পাকাপাকিভাবে, কারও আবার মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বকাপে ফেরা নিয়ে ঝুলছে অনিশ্চয়তায়। আধুনিক ফুটবলের ঠাসা সূচি আর হাড়ভাঙা খাটুনিই এখন খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রদ্রিগোর। একই পথে হেঁটেছেন বায়ার্ন মিউনিখের সার্জ নাবরি। তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল ও এস্তেভাওয়ের ক্লাব মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের ফিটনেস নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম সংশয়। 

এছাড়া আরদা গুলের, এদের মিলিতাও এবং আর্জেন্টিনার দুই তরুণ হুয়ান ফয়েথ ও ভ্যালেন্তিন কার্বৌনিকেও এই আসরে দেখা যাবে না। সর্বশেষ গত ২৪  এপ্রিল রাতে চোটের তালিকায় যোগ দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার চোটের গভীরতা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

ফুটবলারদের এই চোটের মিছিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞরা। সোনাফে ব্রাজিলের স্পোর্টস ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ভিনিসিয়ুস সুজা জানান, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয় বরং দীর্ঘস্থায়ী অবসাদের ফল। ঘরোয়া লিগ ও অন্যান্য টুর্নামেন্টের ঠাসা সূচি খেলোয়াড়দের শরীরকে সতেজ হওয়ার ন্যূনতম সুযোগ দিচ্ছে না। 

ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফুটবলে ‘হ্যামস্ট্রিং’ ইনজুরি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে বার্সেলোনাতেই এর স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। ইয়ামাল, রাফিনিয়া, পেদ্রি থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ লেভানডফস্কি পর্যন্ত হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছেন। 

খুব অল্প সময়ে বারবার গতি বাড়ানো এবং কমানোর ফলে পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত তন্তুর ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইয়ামাল বা এস্তেভাওয়ের মতো তরুণদের ক্ষেত্রে শারীরিক অপরিপক্বতা এবং অতিরিক্ত ম্যাচ খেলাকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

এদিকে চোটের ভয়াবহতা কেবল হ্যামস্ট্রিংয়ে সীমাবদ্ধ নেই, আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে হাঁটু বা এসিএল (ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট) ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা। রদ্রিগো ছাড়াও হোয়াকিন পানিচেল্লি, তাকুমি মিনামিনো ও মোহাম্মদ সালিসুর মতো তারকারা এই জটিল ইনজুরিতে পড়েছেন। 

এ ধরনের চোট কাটিয়ে ফিরতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়, যা বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে দলগুলোর পরিকল্পনাকে তছনছ করে দিচ্ছে। এমনকি গোলকিপার আলিসন বেকার বা টের স্টেগেনও পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেতে লড়াই করছেন।