টানা তিন বিশ্বকাপে হট ফেভারিট ফ্রান্স, মাঠে তাদের দাপটে প্রতিপক্ষ স্রেফ উড়ে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে রানার্সআপ হয় তারা। এবারও শুরু থেকেই দাপট দেখাচ্ছে ফরাসিরা, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে তাদেরকেই এগিয়ে রাখছেন বেশিরভাগ ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকরা। তবে ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার গ্যারি নেভিল মনে করেন, গতবার আর্জেন্টিনা ঠিকই আটকে দিয়েছিল ফ্রান্সকে। এবারও এই কাজটি শুধু তারাই করতে পারবে।
সোমবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফ্রান্স অনায়াসেই জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোতে। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলের সঙ্গে ব্র্যাডলি বারকোলার একটি গোল—সব মিলিয়ে দিদিয়ের দেশমের দল আবারও বুঝিয়ে দিয়েছে, কেন তাদের এবারের শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার ধরা হচ্ছে।
টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ফরাসিরা এবারও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। এমন পারফরম্যান্সের পর অনেকেই তাদের ট্রফির সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখছেন। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার ও বিশ্লেষক গ্যারি নেভিলের মতে, এই মুহূর্তে ফ্রান্সের পথ আটকানোর সামর্থ্য আছে মাত্র একটি দলের—বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।
আইটিভি স্পোর্টসে আলোচনার সময় নেভিল বলেন, এ মুহূর্তে কেবল একটা দলকেই আমি ফ্রান্সকে থামানোর মতো মানসিকতাসম্পন্ন দেখছি, আর সেটা হলো আর্জেন্টিনা। মাঠের ভেতর তাদের সেই আগ্রাসী মনোভাব, প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার জেদ আর বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাই কেবল ফ্রান্সকে আটকে দিতে পারে।
শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। সেই ম্যাচে জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের খেলতে হবে কানাডা ও মরক্কোর ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে। ড্রয়ের এই অংশে পর্তুগাল, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, বসনিয়া, বেলজিয়াম ও সেনেগালের মতো দল থাকলেও, ফাইনালের আগে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই দেশমের শিষ্যদের।
এ কারণেই ফ্রান্সের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো মনে করছেন নেভিল। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, টুর্নামেন্ট যত এগোবে অন্য দলগুলোরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
তার ভাষায়, এ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা ছাড়া অন্য কোনো দলের মধ্যে আমি এমন ঐক্য বা একতাবদ্ধ রূপ দেখছি না, যা ফ্রান্সের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে টুর্নামেন্ট যত গড়াবে, ইংল্যান্ড, স্পেন কিংবা পর্তুগাল হয়তো নিজেদের আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে যাবে। আমাদের সেই আশাই করা উচিত।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা শেষ ৩২-এ খেলবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে। লিওনেল মেসিদের সামনে সম্ভাব্য পথও কঠিন। তবে দুই দলই নিজেদের নকআউটের সব বাধা পেরোতে পারলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আবারও দেখা যেতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স দ্বৈরথ।

