× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

আপেল মাহমুদ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

উত্তরবঙ্গে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু জনজীবন

আপেল মাহমুদ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

কুয়াশাছন্ন সকাল। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কুয়াশাছন্ন সকাল। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কুয়াশার চাদর সরেছে ঠিকই, কিন্তু হিমেল হাওয়ার দাপট কমেনি। উত্তরের জেলাগুলোতে এখন হাড়কাঁপানো ঠান্ডার দাপট। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোদের তেজ অনুভূত হচ্ছে না। আবার বিকাল নামতেই শুরু হচ্ছে কনকনে শীত। আবহাওয়ার এই রুপে নাজেহাল সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষি ও সব পক্ষই।

​স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, শুক্রবার ঠাকুরগাঁও জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মেঘমুক্ত আকাশে সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ সোনালী রোদের দেখা মিললেও স্বস্তি সামান্যই।এদিকে পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। 

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থান হওয়ায় উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে তীব্র শীত ও কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। এ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১০ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

গত কয়েকদিন ধরে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা। সূর্যের দেখা মিলছে। সকাল ও সন্ধ্যার পর কুয়াশার ঘনত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচলেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯২ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার। এর ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ সময়ে আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, কুড়িগ্রামে শীত ও তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে থাকছে। কয়েক দিন ধরে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও উত্তাপ নেই।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া জানান, কয়েক দিন ধরে তার ছেলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। তাই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান।

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, শুক্রবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসে সঙ্গে কুয়াশার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিনিয়তই সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।

স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানা গেছে। ​আবহাওয়ার এই রুপে ভোগান্তি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যর। হাসপাতালগুলোতে লক্ষ্য করা গেছে উপচে পড়া ভিড়।

অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল জানান, প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যময় রূপের কারণে শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক শিশু ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঠান্ডা ও গরমের এই সন্ধিক্ষণে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

ঠাকুরগাঁও জেলার উত্তর হরিহরপুর গ্রামের সলিমুদ্দিনের কথায়, হাতে-পায়ে যেন ঠান্ডার কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে। এই এলাকায় শীতের বিদায় নিতে দেরি হয়। ফেব্রুয়ারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই হিমেল হাওয়া থেকেই যায়।

তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডার কারণে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

আজকের তাপমাত্রা অনুযায়ী তেঁতুলিয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। তবে তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।পরিবেশবিদদের চোখে অবশ্য এই পরিস্থিতি ভিন্ন। অনেকের মতে, এসব আসলে প্রকৃতির প্রতিশোধ। তবে কৃষি ক্ষেত্রে আশার কথা জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর।

কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর জানান, টানা পাঁচ দিন রোদের দেখা মেলায় ফসলের রোগবালাইয়ের আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে। মাঠের ফসলে এক প্রশান্তির বার্তা নিয়ে এসেছে এই রোদ।

রূপালী বাংলাদেশ/আপেল

Link copied!