ঈদুল ফিতরের আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে এবং এই পরিস্থিতি কয়েকদিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন বসন্তকাল। তবে কয়েকদিন ধরে ঢাকার আকাশে বর্ষার মতো ধূসর মেঘের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই কেনাকাটা, ভ্রমণ ও বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন সময় বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সরকার শবে কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। ১৭ মার্চ শবে কদর এবং ১৮ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি থাকবে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে। ফলে অনেকেই আগেভাগে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
কিন্তু এই সময় ঝড়-বৃষ্টি হলে কেনাকাটা, যাতায়াত ও ঈদযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া খোলা মাঠে ঈদের জামাত আয়োজনেও সমস্যা হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্চ মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা নেই।
তবে মার্চের শেষদিকে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে এক থেকে দুইটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে দুই থেকে তিন দিন বজ্রসহ বৃষ্টি ও এক থেকে দুই দিন কালবৈশাখি ঝড় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাস কালবৈশাখির মৌসুম হলেও এ বছর এখনো বড় ধরনের কালবৈশাখি হয়নি। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে কালবৈশাখি আঘাত হানতে পারে।
ঈদের দিন কি বৃষ্টি হবে?
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানান, ঈদের এখনো প্রায় সাত দিন বাকি থাকায় নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ঈদের দিন দেশের কিছু কিছু এলাকায় সাময়িক বৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, ১৬ ও ১৭ মার্চ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। তখন অনেক মানুষই ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পথে থাকবেন। ফলে যাত্রাপথে কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে।
তার মতে, মার্চ মাসে বৃষ্টি সাধারণত স্বল্প সময়ের হয়। কোথাও আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টি হতে পারে। তবে কোথাও দীর্ঘসময় ধরে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ঈদের সময়ে তাপমাত্রা তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।
বাতাসের গতিবেগও খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে এবং বজ্রপাতের ঘটনা ঘটতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পশ্চিমা লঘুচাপ ও তাপীয় লঘুচাপের প্রভাবে দেশে বৃষ্টি হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার অঞ্চলের তাপীয় লঘুচাপ এবং সমুদ্র থেকে আসা বাতাসের সংমিশ্রণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি ১৭ মার্চ পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর বাতাসের ধরন পরিবর্তন হলে বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে।

