× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চার দশকের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত যেভাবে

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরে্দশে শনিবার (৩ জানুয়ারি) বড় ধরণের হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। হামলার পরপরই দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের নির্দেশে কারাকাসে হামলা শুরু হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিস্ফোরণ  হতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে স্থানীয় সময় শনিবার ভোররাতে, রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বেলা প্রায় ১১টা ৫০ মিনিট)।

সিএনএন আরও জানায়, হামলার পর কারাকাসের বেশ কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আটক হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ জানান, শনিবার মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার থেকে দেশটির শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে  হতাহতের (নিহত ও আহতের) সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।  একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ফোর্ট তিউনাতেও হামলা চালানো হয়েছে।

এই আকস্মিক সামরিক হস্তক্ষেপ বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে এই চরম শত্রুতার মূল ভিত্তি কোথায়? এই সংঘাত কি কেবলই সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে দশকের পর দশক ধরে জমে থাকা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আদর্শিক লড়াই? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে, যখন ভেনেজুয়েলায় এক নতুন যুগের সূচনা হচ্ছিল।

হুগো শাভেজ এবং 'বলিভারিয়ান বিপ্লব'-এর উত্থান (১৯৯৯-২০১৩)

‘কোল্ড ওয়ার’–পরবর্তী বিশ্বে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্কের অবনতি শুরু ১৯৯৯ সালে হুগো শাভেজের ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিপুল সমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় এসে তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন এক রাজনৈতিক দর্শনের সূচনা করেন, যার নাম দেন ‘একুশ শতকের সমাজতন্ত্র’। এই আদর্শভিত্তিক পরিবর্তনের ধারাই পরবর্তীতে ‘বলিভারিয়ান বিপ্লব’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

শাভেজের এই নতুন নীতি ছিল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিন আমেরিকান নীতির পরিপন্থী। এর মূল কারণগুলো ছিল:

১. তেলের জাতীয়করণ ও ভূ-রাজনীতি: ভেনেজুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভাণ্ডারের অধিকারী। দেশটিতে মজুদ তেলের পরিমাণ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেলের চেয়েও বেশি। শাভেজের আগে, দেশটির তেল সম্পদ মূলত পশ্চিমা কোম্পানি এবং স্থানীয় অভিজাতদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। 

শাভেজ রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ (PDVSA)-এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তেলের লভ্যাংশ দরিদ্রদের জন্য সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যবহার করতে শুরু করেন। তিনি ওপেক (OPEC)-কে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা তেলের বৈশ্বিক মূল্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানায়।

২. তীব্র মার্কিন বিরোধী অবস্থান: শাভেজ প্রকাশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে "সাম্রাজ্যবাদী" শক্তি হিসেবে অভিহিত করতেন। তিনি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমানোর জন্য কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে তিনি ইরান, রাশিয়া এবং চীনের সাথে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, যা ওয়াশিংটনের জন্য ছিল চরম অস্বস্তির কারণ।

৩. ২০০২ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থান: ২০০২ সালে শাভেজকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি স্বল্পস্থায়ী সামরিক অভ্যুত্থান হয়। শাভেজ অভিযোগ করেন যে, এই অভ্যুত্থানের পেছনে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের হাত ছিল। যদিও যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করে, কিন্তু এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে চিরতরে বিষিয়ে তোলে।

মাদুরোর আমল: অর্থনৈতিক ধস ও রাজনৈতিক সংকট (২০১৩-বর্তমান)

২০১৩ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হুগো শাভেজের মৃত্যুর পর তার মনোনীত উত্তরসূরি ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় আসেন। মাদুরোর শাসনামলে ভেনেজুয়েলা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটে পড়ে।

১. তেলের দরপতন ও অব্যবস্থাপনা: ২০১৪ সাল থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম পতন শুরু হলে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি দ্রুত ভেঙে পড়ে। শাভেজ আমলে তেলনির্ভরতার ওপর অতিরিক্ত জোর এবং অন্যান্য উৎপাদন খাতের অবহেলাই এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর সঙ্গে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা যোগ হয়ে দেশে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়, পাশাপাশি খাদ্য ও ওষুধের মারাত্মক সংকট তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠলে লাখ লাখ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

২. গণতন্ত্রের ক্ষয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন: মাদুরোর বিরুদ্ধে বিরোধীদের দমন, নির্বাচনে কারচুপি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার অভিযোগ ওঠে। ২০১৭ সালে তিনি বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদকে পাশ কাটিয়ে একটি বিতর্কিত গণপরিষদ গঠন করেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগ

মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞার মাত্রা বাড়াতে থাকে। বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় এসব নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বাস্তব প্রেক্ষাপটে এই নীতি ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগে রুপান্তরিত হয়।

এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি তেল রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে দেশটির সরকারের প্রধান রাজস্ব উৎস কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়। ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র নিকোলাস মাদুরোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দেয়।

সংঘাতের আসল কারণ কেবল কি তেল, নাকি মতাদর্শ?

আজকের এই সামরিক হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সংঘাতের মূলে কেবল তেলের নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং একাধিক জটিল কারণ জড়িত। 

আদর্শিক দ্বন্দ্ব: এটি মূলত ওয়াশিংটন কনসেনসাস বা নব্যউদারবাদী অর্থনীতির সাথে শাভেজ-প্রবর্তিত রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সমাজতান্ত্রিক মডেলের দ্বন্দ্ব। ল্যাটিন আমেরিকায় সমাজতন্ত্রের যেকোনো উত্থানকে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাব নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব: রাশিয়া ও চীনের জন্য ভেনেজুয়েলা ল্যাটিন আমেরিকায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। আমেরিকার আঙিনায় বসে এই পরাশক্তিগুলোর সামরিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। মাদুরো সরকার টিকে থাকার জন্য এই দেশগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল।

আঞ্চলিক নেতৃত্ব: শাভেজ এবং পরবর্তীতে মাদুরো ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয় থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেছেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক আধিপত্যের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছিল বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।

মারিয়া করিনা মাচাদোর উত্থান

মার্কিনিদের সাথে চলমান এই দীর্ঘ লড়াইয়ে মাদুরো-বিরোধীদের প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মারিয়া করিনা মাচাদো। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশও বটে। ২০০২ সালে তিনি 'সুমাতে' নামক একটি নাগরিক সংগঠন গড়ে তোলেন, যা শাভেজের বিরুদ্ধে গণভোট আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা রাখে। 

ওয়াশিংটনের সাথে মাচাদোর ঘনিষ্ঠতা শুরু থেকেই ছিল, এমনকি ২০০৫ সালে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সাথে সাক্ষাৎ করেন— যা শাভেজকে ক্ষুব্ধ করেছিল। ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নিরলস সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এই পুরস্কার তাকে কেবল অভ্যন্তরীণ নেত্রী হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মাচাদোকে দিয়ে মাদুরোকে উৎখাতের প্রচেষ্টা

মারিয়া করিনা মাচাদোকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘকাল ধরেই মাদুরোর বিকল্প হিসেবে তৈরি করে আসছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাকে ব্যবহারে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গণতান্ত্রিক বৈধতা: মাদুরোকে যখন একনায়ক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, তখন নোবেলজয়ী মাচাদোকে শান্তির অগ্রদূত হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে। এটি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে একটি 'নৈতিক ভিত্তি' তৈরি করতে সহায়তা করেছে।

বিপক্ষ শিবিরের ঐক্য: দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত থাকা ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলোকে মাচাদোর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাকে অংশ নিতে দেওয়া না হলেও তিনি এডমুন্ডো গঞ্জালেজকে সামনে রেখে জনগণের বিশাল জনমত তৈরি করতে সক্ষম হন।

অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব: মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর, মাচাদোর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নোবেল বিজয় তাকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জোরালো দাবিদার করে তুলেছে। ওয়াশিংটন মনে করে, মাচাদোর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলা পুনরায় তাদের প্রভাববলয়ে ফিরে আসবে এবং তেল বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতের ভেনেজুয়েলা কোন পথে? মাদুরোর আটক এবং কারাকাসে হামলার পর ভেনেজুয়েলা এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে মার্কিন সমর্থিত মারিয়া করিনা মাচাদোর মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফেরার স্বপ্ন, অন্যদিকে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে দেশে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা।

কারাকাসে আজকের এই হামলা এবং মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক স্নায়ুযুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি হতে পারে। হুগো শাভেজ যে মার্কিন বিরোধী রাজনীতির বীজ বপন করেছিলেন, নিকোলাস মাদুরোর অর্থনৈতিক ব্যর্থতা এবং তেল সম্পদকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতির কারণে তা আজ এক ধ্বংসাত্মক সংঘাতে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। 

এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী ফলাফল কী হবে, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে এর প্রভাব হবে ব্যাপক ও সুগভীর।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!