ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৫ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, যারা সুযোগ পাবেন

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:২৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৫ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বৈধতা দেওয়ার জন্য একটি ডিক্রি অনুমোদন করেছে স্পেন সরকার। 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। সরকার জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হতে পারে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাস করেছেন বা আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছেন, তারা বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও অভিবাসনমন্ত্রী এলমা সাইস এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আগের জটিল প্রশাসনিক বাধা দূর হবে এবং মানবাধিকার ও সামাজিক একীভূতকরণের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ডিক্রির মাধ্যমে এই নিয়ম কার্যকর হবে, তাই সংসদের আলাদা অনুমোদন লাগবে না।

বামপন্থী পোদেমোস দলের চাপের কারণে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের নেতা আইওনে বেলাররা বলেন, অনথিভুক্ত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে তারা সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, স্পেন জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এবং অর্থনীতি সচল রাখতে অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের অনেক দেশে কঠোর অভিবাসন নীতি থাকলেও, স্পেন তুলনামূলকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক অবস্থান নিয়েছে।

ব্রাসেলসভিত্তিক সংস্থা পিকাম এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, নিয়মিতকরণ একটি মানবিক ও কার্যকর পদক্ষেপ। “রেগুলারাইজেশন নাউ” আন্দোলনও এটি ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছে।

তবে বিরোধী কনজারভেটিভ পিপলস পার্টি ও ডানপন্থী ভক্স পার্টি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। পিপি নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহো অভিযোগ করেন, সরকার অন্য একটি বড় ঘটনার দৃষ্টি সরাতে এই ঘোষণা দিয়েছে এবং এতে সরকারি সেবায় চাপ বাড়বে। ভক্স নেতা সান্তিয়াগো আবাসকাল গণহারে বহিষ্কারের দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে ৪৩টি নিয়মিতকরণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। স্পেনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত ৯টি কর্মসূচি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসীরা স্পেনের শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে তৈরি শ্রমঘাটতি পূরণে তারা সহায়তা করছেন এবং এতে বেকারত্বও কমেছে।