রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগে আকস্মিক বিঘ্নের ঘটনায় দেশটির ক্ষমতার শীর্ষ মহলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্ভাব্য অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রুশভিত্তিক টেলিগ্রাম চ্যানেল ভিসিএইচকে-ওজিপিইউ–এর বরাতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে প্রেসিডেন্টের সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত। যদিও এ দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা ও কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট ও সেলুলার যোগাযোগ আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় ভিপিএন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রুশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, সম্প্রতি সাবেক উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুসলান সালিকভকে দুর্নীতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতার শীর্ষ মহলে উত্তেজনা বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের মে মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় শোইগুকে। তিনি দীর্ঘদিন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধ তত্ত্বাবধান করেন। পরে তাকে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, শোইগুর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত করার ঘটনায় ক্ষমতার কেন্দ্রের ভেতরে দ্বন্দ্ব তীব্র হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুনে ওয়াগনার গ্রুপের নেতা ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের নেতৃত্বে একটি ব্যর্থ বিদ্রোহের সময়ও মস্কোতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনুরূপ বিঘ্ন দেখা গিয়েছিল।
এদিকে মস্কোর ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট বিঘ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেক রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে বুকিং বা লেনদেন করতে না পারায় কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তবে রুশ সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে রাজধানীতে যোগাযোগ সীমিত করার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র : ডেইলি স্টার , যুক্তরাজ্য

