ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইরানের ক্ষমতায় বসছে আইআরজিসি?

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানকে কার্যত কোণঠাসা করে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর পর এবং তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির অনিশ্চিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে সৃষ্ট ক্ষমতার শূন্যতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সামরিক প্রভাবের গভীরতর বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।

যুদ্ধের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত

রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান নতুন গোয়েন্দা মন্ত্রী নিয়োগের চেষ্টা করলে তা সরাসরি আটকে দেন আইআরজিসি প্রধান আহমদ ভাহিদি। তিনি হোসেন দেহগানসহ প্রস্তাবিত সকল প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করেন।

ভাহিদি স্পষ্ট করে জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল সংবেদনশীল পদ আইআরজিসির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সাধারণত এ ধরনের নিয়োগে সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন প্রয়োজন হয়, তবে মোজতবা খামেনির অনিশ্চিত অবস্থার কারণে রক্ষীবাহিনী নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে।

বেসামরিক সরকার কার্যত অচল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বেসামরিক সরকার বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অচলাবস্থা’র মধ্যে রয়েছে। আইআরজিসি ক্ষমতার কেন্দ্রকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে এবং রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি সামরিক শক্তির এক অভূতপূর্ব কেন্দ্রীকরণ, যা যুদ্ধকালীন সময়ে বেসামরিক শাসনের দুর্বলতা এবং নেতৃত্বের অনিশ্চয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে একটি সামরিক পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব নিয়েছে এবং তার সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ সীমিত করেছে।

তার শারীরিক অবস্থা নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে, যার মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা বা কোমায় থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। যদিও বিদেশি কূটনীতিকরা নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ইরানের ভেতরেই অবস্থান করছেন, তবে এখনো জনসমক্ষে আসেননি।

দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণ শুধু রাজনীতিতে নয়, অর্থনীতি ও কৌশলগত খাতেও বিস্তৃত হয়েছে। হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অবকাঠামোর ওপর তাদের প্রভাব বাড়ছে।

রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা ইরানের এরই মধ্যে দুর্বল অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর বেসামরিক ভারসাম্য না থাকলে দেশটিতে স্থায়ী সামরিকীকরণ, দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

 

সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল