ভারতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফের কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক মানুষ পাঠানোর আশঙ্কা ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য চলছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধ বিদেশিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো তাদের নীতিগত অবস্থান, তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সহযোগিতা অপরিহার্য।
নয়াদিল্লির দাবি, বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৮৬০টি নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত ফাইল ঢাকার কাছে ঝুলে রয়েছে, যেগুলোর অনেকই দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি হয়নি।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশও।
ভারতের অভ্যন্তরেও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। বিভিন্ন রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সীমান্ত ইস্যু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতেও উত্তাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বিজেপি নেতৃত্ব একে নিরাপত্তা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে, যদিও বিরোধী শিবিরের দাবি—এই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ, নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রত্যর্পণ—এই তিনটি ইস্যু ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন করে চাপের মুখে পড়ছে। জলবণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশও পুশব্যাক বা পুশইন নীতির সমালোচনা করে বলছে, অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না—যদিও ভারত সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে এই ইস্যু ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন